"জাপান থেকে ফিলিপাইন পর্যন্ত জলসীমায় চীনের ৫০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজের মহড়াকে 'নগ্ন হুমকি' হিসেবে দেখছে তাইপে।"
-
ভয়ংকর নৌ-বহর: জাপানের দক্ষিণ উপকূল থেকে ফিলিপাইন উপকূল পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে চীনের ৫৩টি সরকারি ও সামরিক নৌযান।
-
লিয়াওনিংয়ের নেতৃত্ব: এই বহরের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে চীনের পরাক্রমশালী বিমানবাহী রণতরি ‘লিয়াওনিং’।
-
তিন দেশের কপালে ভাঁজ: তাইওয়ান, জাপান এবং ফিলিপাইনের নিরাপত্তার জন্য এই একসঙ্গে ঘেরাও করাকে বড় ধরনের বিপদ বলে সতর্ক করেছে তাইওয়ান।
-
তথ্য প্রকাশ: তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ এক্স হ্যান্ডেলে মানচিত্র প্রকাশ করে এই নজিরবিহীন আগ্রাসনের চিত্র ফাঁস করেছেন।
-
বেইজিংয়ের সাফাই: চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এটিকে রুটিন প্রশিক্ষণ বললেও, আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার পারদ চড়ছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জাপানের দক্ষিণ উপকূল থেকে শুরু করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাইওয়ান প্রণালী পেরিয়ে ফিলিপাইনের সমুদ্রসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল জলসীমায় একসঙ্গে তৎপরতা চালাচ্ছে চীনের ৫০টিরও বেশি নৌযান। তাইওয়ানের দিকে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তাইওয়ান। তাইওয়ান প্রণালির আশেপাশে চীনের ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে গভীর উদ্বেক প্রকাশ করেছে তাইপে ।
এর মধ্যে অন্তত ৩৪টিই বিধ্বংসী নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, যার নেতৃত্বে রয়েছে বেইজিংয়ের পরাক্রমশালী বিমানবাহী রণতরি ‘লিয়াওনিং’। এই বিশাল নৌবহরের উপস্থিতি তাইওয়ান, জাপান এবং ফিলিপাইনের নিরাপত্তার জন্য বর্তমানে এক চরম ও প্রত্যক্ষ বিপদ ডেকে এনেছে বলে দাবি করেছে তাইপে প্রশাসন।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের শীর্ষ মহাসচিব জোসেফ উ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি স্পর্শকাতর মানচিত্র প্রকাশ করে এই ভীতিকর চিত্র সামনে এনেছেন। প্রকাশিত ওই মানচিত্রে দেখা যায়, চীনের বিমানবাহী রণতরি লিয়াওনিং ও তার পুরো স্ট্রাইক গ্রুপটি বর্তমানে ফিলিপাইনের পূর্ব দিকের সমুদ্রে অবস্থান নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
পাশাপাশি, তাইওয়ানের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের একদম কাছাকাছি অবস্থান করছে বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজের বহর। এমনকি জাপানের দক্ষিণ উপকূলের ফুসফুসের কাছেও চীনের তিনটি আলাদা নৌবহর সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করছে, যা তিন প্রতিবেশী দেশের জন্য একই সুতোয় বাঁধা এক অভিন্ন নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছে।
এই নজিরবিহীন সামরিক তৎপরতার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জোসেফ উ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, বেইজিংয়ের এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং এটি স্পষ্টতই একটি প্রকাশ্য হুমকি।
পরিস্থিতির গভীরতা অনুধাবন করে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু পার্লামেন্টে সাংবাদিকদের আরও জানিয়েছেন, ইন্দো-প্যাসিফিকের আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্ট করতে পারে এমন কোনো পেশিশক্তি বা মহড়া তারা কোনোভাবেই বরদাশত করবেন না। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির মোকাবিলায় তাইপে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করছে এবং চীনা রণতরির প্রতিটি পদক্ষেপে কড়া নজরদারি বজায় রাখছে।
এদিকে ভূ-রাজনীতির এই মারপ্যাচে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। স্বশাসিত দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে কমিউনিস্ট চীন। তবে তাইওয়ান সরকারের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা—দ্বীপটির ভাগ্য নির্ধারণের একমাত্র এখতিয়ার কেবল সেখানকার জনগণেরই রয়েছে এবং বেইজিংয়ের এই বিষয়ে নাক গলানোর কোনো অধিকার নেই।
অন্যদিকে, সম্প্রতি দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রতি জাপানের প্রকাশ্য সমর্থন বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। পাশাপাশি, দক্ষিণ চীন সাগরে মৎস্য অধিকার ও পানিসীমা নিয়ে ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের বিরোধ এখন চরম আকার ধারণ করেছে।
এত বড় একটি সামরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, বিমানবাহী রণতরি লিয়াওনিংয়ের এই মহড়াটি তাদের পূর্বনির্ধারিত ও নিয়মিত বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণেরই একটি অংশ মাত্র এবং এটি জেনেশুনে কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে না।
তবে বেইজিংয়ের এই শান্ত্বনামূলক দাবি সত্ত্বেও ইন্দো-প্যাসিফিকের জলসীমায় যুদ্ধংদেহী মনোভাবের এই প্রদর্শনী পুরো এশীয় অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের কালো মেঘ ঘনীভূত করছে।
সান নিউজ / রাজীব