মূল হাইলাইটস
📊 রেকর্ড ভোটার উপস্থিতি: ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৯৯ সালের আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। 🏛️ সম্ভাব্য আসন: বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, আরব দলগুলোর প্রধান জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ এবং ‘রাআম’ সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। 🤝 সরকার গঠনে প্রভাব: রাআম নেতা মনসুর আব্বাস আশা প্রকাশ করেছেন, নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন তারা পেতে পারেন। ⚖️ রাজনৈতিক সমীকরণ: সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিঙ্কাসের মতে, সরকার গঠনে আরব দলগুলোকে পাশ কাটিয়ে চলা বা বাইরে রাখা এখন আর সম্ভব নয়। ⚠️ বিতর্কিত কৌশল: নেতানিয়াহু জোট আরব ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে সমর্থকদের সতর্ক করায়, আরব রাজনীতিবিদরা একে ‘বর্ণবাদী ও উসকানিমূলক’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
ইসরায়েলে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের অভূতপূর্ব উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। বিগত কয়েক দশকের তুলনায় এবার তাদের ভোট প্রদানের হার ছিল অত্যন্ত বেশি, যা দেশটির রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সর্বকালের রেকর্ড ভাঙা ভোটার উপস্থিতি : গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশটির সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি ভোটারদের অংশগ্রহণ প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। ১৯৯৯ সালের আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়া এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের জোরালো অবস্থান তৈরিতে তারা কতটা সচেতন।
প্রাথমিক বুথফেরত জরিপের ফল বলছে, আরব দলগুলোর প্রধান জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ এবং ‘রাআম’ (ইউনাইটেড আরব লিস্ট) সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৯টি আসনে জয়লাভ করতে পারে।
সরকার গঠনে আরব দলের সম্ভাব্য প্রভাব : রাআম দলের প্রধান মনসুর আব্বাস আশা প্রকাশ করেছেন যে, চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফলে তার দলসহ নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জাদুকরি সংখ্যা বা ৬১টি আসন অর্জন করতে সক্ষম হবে।
ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে বর্তমানে ৫টি আসন ধরে রাখা এই দল এর আগে ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটির ক্ষমতাধীন জোটেও অংশ নিয়েছিল। মনসুর আব্বাসের দাবি, ভোটের আগে ও পরে—উভয় সময়ই প্রধান দুটি রাজনৈতিক শিবির তার দলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
‘আরবদের বাইরে রাখা যাবে না’ : ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিঙ্কাস আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন যে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় আরব দলের সঙ্গে জোট না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া দলগুলোর জন্য এখন সরকার গঠন বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তার মতে, “যখন আপনার ভোটের প্রয়োজন হবে, কেবল তখন তাদের জোটে টানা হবে—এমন নীতি আর চলতে পারে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরবদের পাশ কাটিয়ে চলা অসম্ভব।”
উসকানিমূলক ও বর্ণবাদী প্রচারণার অভিযোগ : নির্বাচনের দিন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার কট্টর ডানপন্থী সহযোগীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মাঝে ভোটদানের উল্লম্ফন নিয়ে তারা সমর্থকদের সতর্কও করেছিল।
আরব রাজনীতিবিদরা নেতানিয়াহু জোটের এই কৌশলকে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করে একে সম্পূর্ণ বর্ণবাদী ও উসকানিমূলক আচরণ বলে অভিহিত করেছেন।
সান নিউজ / রাজীব