পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৪৪ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। একই সময়ে জঙ্গিদের হামলায় একজন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি)সহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে পৃথক এসব ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি জানান, বুধবার (২৯ জুলাই) গভীর রাতে খাইবার পাখতুনখাওয়ার হাঙ্গু জেলার একটি পুলিশ চেকপোস্টে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এ হামলায় একজন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি)সহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন।
তিনি বলেন, পাল্টা অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী আট সন্ত্রাসীকে হত্যা করে এবং হামলাটি প্রতিহত করে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে আরও ১৮ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এর আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানায়, আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন খাইবার জেলায় একাধিক অভিযানে ২৪ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এছাড়া বেলুচিস্তানের নুশকি জেলায় পৃথক অভিযানে আরও আট সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক (আইইডি) উদ্ধার ও ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করতে এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তানে শত শত হিজড়ার বিক্ষোভ মিছিল
অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখাওয়ার সোয়াত জেলায় চলমান অভিযানে আরও চার সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এলাকায় তল্লাশি অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সোয়াত একসময় জঙ্গিগোষ্ঠীর শক্ত ঘাঁটি ছিল। তবে ২০০৯ সালে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পর উপত্যকাটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে সরকার।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বেড়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, এসব হামলার সঙ্গে আফগানিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জড়িত। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সান নিউজ/ রাব্বি