ইউক্রেনীয় সেনাসদস্যদের হত্যা করার জন্য কিশোরী ইউক্রেনীয় মেয়েদের নিয়োগ করার অভিযোগরাশিয়ার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।
একজন রুশ গুপ্তচরের নির্দেশে এক সেনাসদস্যকে হত্যার সন্দেহে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গ্রেফতার করার পর এই অভিযোগ করেন ইউক্রেনের পুলিশের প্রধান।
ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম সেনজর.নেট-এ বুধবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় পুলিশ প্রধান ইভান ভাইহিভস্কি বলেন, এ বছর টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে সংগঠিত ছয়টি ভাড়াটে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে একটি প্রতিরোধ করা হয়েছে।
মন্তব্যের জন্য রাশিয়ার এফএসবি নিরাপত্তা সংস্থার সাথে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো রাশিয়ায় বোমা হামলার জন্য রুশদের নিয়োগের অভিযোগ তোলে কিয়েভের বিরুদ্ধে।
২০২২ সালে মস্কোর আগ্রাসনের পর থেকে বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন রুশ কর্মকর্তাকে হত্যার দায় ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা স্বীকার করেছে বলেও জানানো হয়।
ভাইহিভস্কি বলেছেন, রুশ নিয়োগকারীরা মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণীদের খুঁজে বের করত, তাদের সহজে টাকা কামানোর প্রতিশ্রুতি দিত এবং দূর থেকে তাদের কার্যকলাপ সমন্বয় করত।
ভাইহিভস্কি আরও বলেন, ওই তরুণীদের ডেটিং ওয়েবসাইটে ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মীদের খোঁজার নির্দেশ দেয়া হতো এবং তাদের সাথে দেখা করার জন্য অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করতে হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে টাকা দেয়া হতো।
তিনি বলেন, ‘পানীয়তে মেশানোর জন্য মেথাডোন—একটি কৃত্রিম ওপিঅয়েড যা ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং উচ্চ মাত্রায় সেবনে প্রাণঘাতী হতে পারে’—কোথায় পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কে তাদের জানানো হয়েছিল।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধের সময় দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসবাদ বা অন্তর্ঘাতের অভিযোগে ১,১০০ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয়কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, তিনি একটি পার্সেল পেয়েছিলেন যেটিতে একটি স্ফটিকাকার পদার্থ ছিল এবং তদন্তকারীরা ধারণা করছেন যে সেটি মেথাডোন।
সূত্রঃ রয়টার্স
সান নিউজ/ জামান