মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। এ হামলায় একটি আবাসিক ভবনে শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান ও দেশটির সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো।
একই সঙ্গে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা এবং ইরাকে যৌথ হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরআইবি জানায়, দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত বুশেহর প্রদেশের বুশেহর, জাম ও খোরমোজ শহরের আশপাশে গভীর রাতে মার্কিন বিমান হামলা চালানো হয়। এসব এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও দক্ষিণাঞ্চলের কেশম আইল্যান্ডে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় বাবা, মা ও তাদের দুই বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের আরও দুই সন্তান আহত হয়েছে বলে জানানো হয়।
হামলার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরআইসি) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মহান আল্লাহর সহায়তায় আগ্রাসীকে আজই কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।’
আইআরআইসি আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ইরানের ভূখণ্ড এবং কোনো বহিরাগত শক্তিকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক নৌপথ বন্ধ থাকবে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) কয়েকটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ইরাক থেকে সৌদির তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাবে এ অভিযান চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে অন্তত ২০ জন পিএমএফ সদস্য এবং চারজন ইরানি সামরিক উপদেষ্টা নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরাকের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। হামলাকে ‘অপরাধমূলক, অমানবিক ও উসকানিমূলক’ আখ্যা দিয়েছে তেহরান। পাশাপাশি শিয়া মুসলিমদের পবিত্র আরবাইন উপলক্ষে কারবালামুখী পুণ্যার্থীদের বিশ্রামস্থল ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাগদাদ ও তেহরান।
এদিকে, সংঘাতের চতুর্থ দিনে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান থেকে ছোড়া অন্তত পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করেছে জর্ডানের সামরিক বাহিনী।
অন্যদিকে, এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থান আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব নয়। তবে লোহিত সাগর ও ইসরাইলের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল হয়ে বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তার উপ-মুখপাত্র ফারহান হক জানান, সংঘাত যেন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং পাকিস্তান, কাতারসহ অন্যান্য দেশের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন মহাসচিব।
সান নিউজ/ জামান