‘ডন ৩’ থেকে রণবীর সিংয়ের হঠাৎ সরে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে বলিউডে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার জেরে ছবির প্রযোজক ফারহান আখতার ও রণবীর সিংয়ের মধ্যে কয়েক মাস ধরেই নানা ঝামেলার খবর পাওয়া যায়।
এবার সেটা আরও তীব্র রূপ নিল। কারণ, সোমবার (২৫ মে) এ ঘটনার জেরে রণবীরের সঙ্গে কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছে ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই)।
তবে এই নির্দেশনা আইনগতভাবে কতটা কার্যকর, আর এর ফলে রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ারে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা চলছে বলিউডে।
বিতর্কের সূত্রপাত ফারহান আখতার পরিচালিত ‘ডন ৩’ ঘিরে। ছবিটি থেকে শেষ মুহূর্তে রণবীর সিং সরে দাঁড়ানোর পর প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠান এবং নির্মাতারা আর্থিক ক্ষতি ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তোলে। এরপরই এফডব্লিউআইসিই বিষয়টি নিয়ে অভিনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে।
সংগঠনটির সভাপতি অশোক পণ্ডিত দাবি করেন, প্রথমে রণবীর তাদের চিঠির জবাব দেননি। পরে ই–মেইলে তিনি জানান, এটি মূলত চুক্তিগত বিরোধ, তাই এফডব্লিউআইসিইয়ের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নেই। তার মতে, এমন বিরোধ আদালত বা সালিসি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত।
এরপরই প্রকাশ্যে আসে এফডব্লিউআইসিইয়ের ‘নন-কো-অপারেশন ডিরেকটিভ’। এর অর্থ, সংগঠনের আওতাভুক্ত সদস্যদের রণবীর সিংয়ের সঙ্গে কোনো প্রকল্পে কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ রণবীর ‘নিষিদ্ধ’। বলিউডে যেখানে একটি সিনেমা তৈরিতে শত শত কর্মী—মেকআপ আর্টিস্ট, স্পটবয়, লাইটিং টিম থেকে শুরু করে টেকনিশিয়ান—জড়িত থাকেন, সেখানে এমন নির্দেশনা শুটিং ও প্রযোজনায় বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।
তবে আইনগত বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংগঠন মূলত মধ্যস্থতাকারী বা চাপ প্রয়োগকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করে। বেতন, কাজের পরিবেশ বা পেশাগত বিরোধে তারা ভূমিকা রাখলেও কোটি টাকার চুক্তিভঙ্গ বা ক্ষতিপূরণের বিষয় শেষ পর্যন্ত আদালত বা সালিসি বোর্ডেই নিষ্পত্তি হয়।
এ জায়গাতেই জটিল হয়ে উঠেছে রণবীর–এফডব্লিউআইসিই বিরোধ। আইনিভাবে অভিনেতার অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে; কারণ, তিনি মনে করছেন, চুক্তিগত বিরোধে সংগঠনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। অন্যদিকে সংগঠনটির দাবি, তারা শুধু ‘ডন ৩’ নয়, বরং শিল্পী হিসেবে রণবীরের আচরণ ও আলোচনায় অংশ না নেওয়ার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
এদিকে পুরো ঘটনায় আপাতত কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন রণবীর সিং। তার মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, রণবীর পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গন এবং ‘ডন ৩’–এর সঙ্গে যুক্ত সবার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান পোষণ করেন। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই নীরব থেকেছেন। কারণ, তার বিশ্বাস, পেশাগত আলোচনা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক মর্যাদা, পরিপক্বতা ও পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে সামলানো উচিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সময়ের সঙ্গে নানা জল্পনা-কল্পনা ও ভিন্ন বয়ান সামনে এলেও রণবীর কখনোই প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানানো প্রয়োজন মনে করেননি। তিনি কোনো ধরনের অনুমানভিত্তিক বিতর্কেও জড়াতে চাননি। বর্তমানে তার পুরো মনোযোগ কাজ এবং সামনে থাকা প্রতিশ্রুতিগুলোর দিকেই।
রণবীরের টিম জানায়, ‘ডন’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত সবার প্রতি অভিনেতার এখনো গভীর শ্রদ্ধা ও শুভকামনা রয়েছে। একই সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ভবিষ্যৎ সাফল্যও কামনা করেছেন তিনি।
বিবৃতির শেষ অংশে বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে সংযম ও সৌজন্য বজায় রাখা সব সময়ই রণবীরের সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল এবং ভবিষ্যতেও তিনি একই অবস্থান ধরে রাখবেন।
তবে প্রশ্ন উঠছে, এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে রণবীর আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন কি না। বিশ্লেষকদের মতে, চাইলে তিনি আদালতে যেতে পারেন। কারণ, কোনো ট্রেড ইউনিয়নের এমন নির্দেশনা যদি কারও কাজের অধিকার ক্ষুণ্ন করে বা কালোতালিকাভুক্ত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে, তাহলে আদালত তা খতিয়ে দেখতে পারে।
এ বিরোধের প্রভাব পড়তে পারে রণবীরের পরবর্তী সিনেমার ওপরও। হংসল মেহতা প্রযোজিত ও জয় মেহতা পরিচালিত নতুন পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপটিক থ্রিলারটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা আগামী আগস্টে।
সাননিউজ/আরএ