মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁওয়ে সোহেল মুন্সী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কনফারেন্স রুমে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গাঁওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে সোহেল মুন্সীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই সঙ্গে উঠানে থাকা তার মোটর-সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ঘটনায় নিহতের মা সেফালী বেগম বাদী হয়ে লৌহজং থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও অগ্নি- সংযোগের মামলা দায়ের করেন।
পরে ঘটনায় পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএমের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেনের তত্ত্বাবধানে লৌহজং থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে মঙ্গলবার সকাল ৬ টার দিকে জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার যশলং ইউনিয়নের সেরাজাবাদ গ্রাম থেকে মো. দ্বীন ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সেরাজাবাদ গ্রামের মৃত শামসুল হক ঢালী ওরফে সানু ঢালীর ছেলে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীন ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেফতারকৃত দ্বীন ইসলাম নিহত সোহেল মুন্সীর স্ত্রী নুপুরের সাবেক স্বামী। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। ঘটনার রাতে সোহেল মুন্সীর বাড়িতে প্রবেশ করে প্রথমে মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুন নেভাতে বাইরে বের হলে সোহেল মুন্সীর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।
পুলিশ আরও জানায়, তদন্তকালে ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রাপ্ত তথ্য ও ফুটেজ পর্যালোচনায় অভিযুক্তের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ব্যবহৃত বলে ধারণা করা নেভি-ব্লু রঙের একটি ফুলহাতা শার্ট, একটি প্যান্ট, একজোড়া সাদা কেডস, একটি লাল গামছা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সান নিউজ/ জামান