ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশ

বাগেরহাটে ১০ পরিবার অবরুদ্ধ, হয়রানি করার উদ্দেশ্যে সাজানো মামলা দায়ের

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ব্রক্ষগাতি কচুবুনিয়া বিল এলাকায় মারধর ও লুটপাটের মামলা ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। মামলাটিকে ঘিরে আসামিপক্ষ ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ—ঘটনাটি মামলায় যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। বরং এটি একটি সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, যার মূল লক্ষ্য দীর্ঘদিনের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ করে দখল পাকাপোক্ত করা এবং এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি ও চাপের মুখে রাখা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, প্রায় ১০০ বছর ধরে বসবাসরত অন্তত ১০টি পরিবার বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তাদের মূল সড়কে যাতায়াতের একমাত্র পথটি সরকারি খাস জমির ওপর দিয়ে হলেও অভিযোগ রয়েছে—সেই রাস্তা কেটে সেখানে ঘের নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে পরিবারগুলো চরম মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমে ছোট শিশুদের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হয়। কোনো বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী বা অসুস্থ শিশু হলে বাঁশের ঝাঁপা বেঁধে কাঁধে করে হাসপাতালে নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না। ২০২৬ সালে এসে এ ধরনের পরিস্থিতিকে স্থানীয়রা চরম অমানবিক ও সভ্যতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করছেন।

বাদীপক্ষ কমলেশ মন্ডলের দায়ের করা মামলার অভিযোগের সত্যতা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। মামলায় যন্ত্রপাতি ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হলেও যাকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—উজ্জ্বল কীর্তুনিয়া, তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার কোনো যন্ত্রপাতির ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন। এতে মামলার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

এছাড়া মামলার প্রধান আসামি হিসেবে যাকে উল্লেখ করা হয়েছে—উত্তম মন্ডল, তিনি একজন পেশাদার ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র একটি শাখায় কর্মরত।

আসামিপক্ষের অভিযোগ, তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও মানহানি করাই এই মামলার অন্যতম উদ্দেশ্য। তারা আরও দাবি করেছেন, চলাচলের পথ নিয়ে কথা বললেই খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং একের পর এক মামলার ভয় দেখিয়ে নিরীহ পরিবারগুলোকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে।

সরকারি খাস জমির ওপর দিয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী হাঁটার রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করার বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বাদীপক্ষ তাতে সম্মত হয়নি। বরং মামলাবাজির আশ্রয় নিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি খাস জমির ওপর দিয়ে চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ করে মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা কি আদৌ আইনের শাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? তারা অবিলম্বে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর নিরাপদ চলাচলের পথ নিশ্চিত করা এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাননিউজ/আরআরপি

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ২১ বছর পর হারল অস্ট্রেলিয়া

২১ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মর...

বিশ্বকাপে মাদারীপুরে ব্রাজিলের  ৮০০ হাত পতাকায়  এক গ্রাম

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে না হতেই ফুটবল উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামবাংলার জনপদে। দ...

একনেকে ৩,৮৯০ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

দেশের অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করত...

বিশ্বকাপ নিয়ে সঞ্জয়-নোরার গান এবার প্রকাশ্যে

কিছুদিন বাদে হতে চলেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের মহা আসর। ফুটবল উন্মাদনায় ভাসছে পৃথিবী...

চীন যাচ্ছে ৪ সদস্যের সংসদীয় প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নেতৃত্বে প্...

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ২১ বছর পর হারল অস্ট্রেলিয়া

২১ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মর...

স্কুল ফিডিংয়ে নষ্ট খাবার সরবরাহ, গ্রেফতার ২ 

​মাদারীপুর সদর উপজেলায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে...

নাটোরে ধর্ষণের শিকার মা, গ্রেফতার ৩

রোববার (৭ জুন) রাত ১০টার দিকে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে অসুস্থ শিশুকন্যার চিকিৎ...

প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন ভারতের

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) সবশেষ প্রতিবেদন...

চীন যাচ্ছে ৪ সদস্যের সংসদীয় প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নেতৃত্বে প্...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা