উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে শনিবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় এসব এলাকায় ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এতে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) চট্টগ্রামের আমবাগানে ২৭৭ মিলিমিটার, বান্দরবানে ২১০ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ১৬৫ মিলিমিটার এবং কক্সবাজারে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া ও সদর উপজেলা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৭, ৮, ৯ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং বাঁশখালী উপজেলা, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও সদর উপজেলা এবং রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলাকে ভূমিধসের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে অধিদপ্তর।
এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাহাড়ের ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট, মোমবাতি, দিয়াশলাই, অন্তত তিন দিনের কাপড় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দিয়ে রাখা, পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং গবাদিপশু ও পোষা প্রাণীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের পাশাপাশি আকস্মিক বন্যারও আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নদী ও পাহাড়ি ঝিরির আশপাশে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার রাখা, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা, বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের মধ্যে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সান নিউজ/ জামান