কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বাড়ছে। এর প্রভাবে নদীর চরাঞ্চলের নিচু জমিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। ফলে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে আগাম ফসল কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টায় গোমতী নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৮ দশমিক ৫৯ মিটার। নদীটির বিপৎসীমা ১১ দশমিক ৩০ মিটার হওয়ায় পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে কুমিল্লার আদর্শ সদর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। সীমান্তবর্তী আদর্শ সদর উপজেলার কয়েকটি চর ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। এতে মৌসুমি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বেড়েছে। অনেক কৃষক ক্ষতি কমাতে অপরিপক্ব অবস্থাতেই সবজি ও অন্যান্য ফসল তুলে নিচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় গোমতীর পানির উচ্চতা ৮ দশমিক ৯৩ মিটারে উঠলেও পরে তা কমতে শুরু করে। রাত ১২টায় তা নেমে আসে ৮ দশমিক ৮৬ মিটারে এবং শুক্রবার সকাল ৯টায় আরও কমে ৮ দশমিক ৫৯ মিটারে দাঁড়ায়। সকাল থেকে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বিকেলের দিকে পানির উচ্চতা আরও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, গোমতীর পানি এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বর্তমানে বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিজ রোজী আকতার বলেন, বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবার নদীর পানি কিছুটা কমেছে। এখনো বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সান নিউজ/ জামান