সারাদেশ

ধর্ষণ মামলা করায় খুন, গ্রেফতার ১

সান নিউজ ডেস্ক: পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় ইউপি সদস্য মামুন হাওলাদারকে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার মূলহোতা গাজী সিদ্দিকুর রহমানকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

আরও পড়ুন: ইশরাকের গাড়িবহরে হামলা (ভিডিও)

শনিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। গ্রেফতার গাজী সিদ্দিকুর রহমান (৫৫) উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।

র‌্যাব জানায়, ২০১১ সালে নিহত মামুনের আত্মীয়া জনৈক নারীকে ধর্ষণ করার দায়ে গ্রেফতার সিদ্দিকুরের ভাই কামাল এবং ভাতিজা আসাদুলের বিরুদ্ধে নিহত মামুন বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে তারা মামুনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

আরও পড়ুন: খুনিদের যুদ্ধে পাঠাচ্ছেন ‍পুতিন!

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ৩১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পিরোজপুরের কাউখালীর শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মামুন হাওলাদারকে প্রকাশ্য দিবালকে কতিপয় দুষ্কৃতকারী কুপিয়ে বাম পা কেটে বিচ্ছিন্ন করে, শরীর ও মুখমণ্ডল ক্ষত-বিক্ষত ও বিকৃত করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে সিদ্দিকুর রহমানকে প্রধান আসামি করে তার সহযোগী আরও ১০ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে ভান্ডারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

তিনি আরও বলেন, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এরপরই র‌্যাব এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিনগত রাতে র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জ থেকে মামুন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি গাজী সিদ্দিকুর রহমানকে গ্রেফতার করে।

আরও পড়ুন: পাবনায় ছাত্রদল নেতাসহ নিহত ২

গ্রেফতার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানিয়ে কমান্ডার মঈন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার সিদ্দিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। নিহত মামুন হাওলাদার পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। তার সঙ্গে গ্রেফতার সিদ্দিকুর, তার ভাই কামাল এবং ভাতিজা আসাদুলের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালে নিহত মামুনের আত্মীয়া জনৈক নারীকে ধর্ষণ করার দায়ে গ্রেফতার সিদ্দিকুরের ভাই কামাল এবং ভাতিজা আসাদুলের বিরুদ্ধে নিহত মামুন বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় আসামি কামাল ও আসাদুল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তারা মামুনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে হত্যার পরিকল্পনা শুরু করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মামুনের সঙ্গে সিদ্দিকুর ও কামালের বাকবিতণ্ডা হয়। পূর্বশত্রুতার জের ধরে গ্রেফতার সিদ্দিকুরের নেতৃত্বে কামাল, আসাদুল এবং তাদের আরও কয়েকজন সহযোগী মিলে মামুনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

আরও পড়ুন: ইমরান খানের হামলাকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সিদ্দিকুর, কামাল, আসাদুল এবং সজল জমাদ্দারসহ বেশ কয়েকজন মোল্লারহাট বাজারে সিদ্দিকুরের অফিসে একত্রিত হয়ে হত্যার নীলনকশা তৈরি করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মামুনকে কৌশলে মোটরসাইকেলে করে উত্তর ভিটাবাড়িয়ার একটি স্থানে নিয়ে আসার দায়িত্ব দেওয়া হয় সজল জমাদ্দারকে। কামাল ও আসাদুলসহ অন্যদের ধারালো অস্ত্র সংগ্রহ করে ভিটাবাড়ী এলাকায় গাছ ফেলে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সজল জমাদ্দারকে পিটিয়ে আহত করার কথা বলা হয়, যেন বিষয়টি নিয়ে জনমনে কোনো সন্দেহের সৃষ্টি না হয়। গ্রেফতার সিদ্দিকুর ঘটনার পরপরই গা ঢাকা দেন। প্রথমে পিরোজপুর এবং পরে রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় আত্মগোপন করেন। এরপর সে অবস্থান পরিবর্তন করে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় যান।

আরও পড়ুন: টুইটার থেকে ৩ হাজার ৭০০ কর্মী ছাঁটাই

প্রসঙ্গত, গ্রেফতার গাজী সিদ্দিকুর রহমান ১৯৮৪ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকায় এসে তার এলাকার জনৈক ঠিকাদারের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এ সময় রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০০২ সালে ঠিকাদারির কাজ ছেড়ে গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে ফিরে যান এবং সেখানে মুরগির ফার্ম ও মাছের ব্যবসা শুরু করেন। পরে ২০০৩ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের পর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, বিভিন্ন ধরনের বিরোধের জের ধরে তার নানাবিধ অপকর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি এবং অস্ত্র মামলাসহ প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি একাধিকবার কারাভোগও করেছেন।

সান নিউজ/কেএমএল

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

১৯২৭ -২০২৭: গৌরীপুর পৌরসভা

ব্রিটিশ আমলে ১৯২৭ সালের পহেলা জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত ময...

মুন্সীগঞ্জ সদরে ৫০০ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মো. দেল...

মশক নিয়ন্ত্রণের জন্য আসছে ‘১০০-তে ১০০’ কর্মসূচি

আগামীকাল থেকে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে ‘১০০-তে ১০০’ কর...

মাটিরাঙায় বিনামূল্যে স্তন ও জরায়ুর মুখ ক্যানসারের পরীক্ষা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত 

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় অসহায় নিম্মবিত্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দি...

মাটিরাঙায় বিনামূল্যে স্তন ও জরায়ুর মুখ ক্যানসারের পরীক্ষা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত 

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় অসহায় নিম্মবিত্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দি...

মুন্সীগঞ্জ সদরে ৫০০ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মো. দেল...

মশক নিয়ন্ত্রণের জন্য আসছে ‘১০০-তে ১০০’ কর্মসূচি

আগামীকাল থেকে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে ‘১০০-তে ১০০’ কর...

১৯২৭ -২০২৭: গৌরীপুর পৌরসভা

ব্রিটিশ আমলে ১৯২৭ সালের পহেলা জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত ময...

ভালুকায় দেশীয় মাছ রক্ষায় বিশেষ অভিযান: বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ ও ধ্বংস

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় পরিচালিত...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা