দীর্ঘ আট বছর আগের এক তিক্ত স্মৃতি সঙ্গী করে আজ ফের দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে অস্ট্রেলিয়া দল। ২০১৮ সালে কেপটাউনে সেই আলোচিত ‘স্যান্ডপেপারগেট’ বা বল টেম্পারিং কাণ্ডে তোলপাড় হয়েছিল বিশ্ব ক্রিকেট। ওই ঘটনায় এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তৎকালীন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ও সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। দীর্ঘ সময় পর আজ সেই দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেই সাদা পোশাকে মাঠে নামছেন স্টিভ স্মিথ।
ঐতিহাসিক সেই কেলেঙ্কারির ঘটনার সময় দক্ষিণ আফ্রিকা দলের স্কোয়াডে থাকা টেম্বা বাভুমা, এইডেন মার্করাম, কেশভ মহারাজ ও কাগিসু রাবাদারা এখনো প্রোটিয়াদের বর্তমান দলে আছেন (যদিও অনুশীলনে চোট পাওয়ায় এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না রাবাদা)। পুরোনো সেই তিক্ততার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার সামনে এবার রয়েছে মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার আরেকটি বড় সুযোগ। গত বছর লর্ডসে অনুষ্ঠিত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রোটিয়াদের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল অজিদের। তবে সেবার শিরোপা জয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকা দল টেস্ট ফরম্যাটে খুব একটা নিয়মিত ছিল না এবং গত ১৭ মাসে তারা নিজেদের হোম কন্ডিশনে কোনো টেস্ট ম্যাচেই অংশ নেয়নি। ফলে এই সিরিজটি স্বাগতিকদের জন্য বেশ বড় চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ড্র করা অস্ট্রেলিয়া এই ম্যাচ জিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করতে চাইবে, যেখানে বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে।
এই ম্যাচে অজিদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে তাদের ব্যাটিং বিভাগ। দলের নিয়মিত মুখ ক্যামেরন গ্রিন ইনজুরিতে থাকায় ফর্মে না থাকা সত্ত্বেও তিন নম্বর পজিশনে আরও একটি সুযোগ পাচ্ছেন মারনস ল্যাবুশেন। গ্রিনের অনুপস্থিতিতে অলরাউন্ডার ওয়েবস্টার ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাচ্ছেন এবং মিডল ও লোয়ার অর্ডারে সাত নম্বরে নামতে পারেন তরুণ কুপার কনোলি। বোলিং আক্রমণে অস্ট্রেলিয়া তাদের পরীক্ষিত শক্তির ওপরই আস্থা রাখছে—একমাত্র স্পিনার হিসেবে থাকছেন অভিজ্ঞ নাথান লায়ন এবং পেস আক্রমণে নেতৃত্ব দেবেন মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও যশ হ্যাজেলউড।
প্রোটিয়াদের বোলিং কৌশল ও পিচ কন্ডিশন
ডারবানের উইকেটের চরিত্র ও প্রকৃতির কথা মাথায় রেখে দুই স্পিনার কেশভ মহারাজ ও সাইমন হারমারকে নিয়ে একাদশ সাজাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কাগিসু রাবাদা ছিটকে যাওয়ায় পেস বিভাগে আনরিখ নরখিয়ার অন্তর্ভুক্তি প্রায় নিশ্চিত। তাঁর সঙ্গী হিসেবে পেস আক্রমণে থাকবেন মার্কো ইয়ানসেন এবং অলরাউন্ডার উইয়ান মুল্ডার। সব মিলিয়ে আট বছর আগের সেই ঘটনার ছায়া কাটিয়ে দুই দলের এই হাই-ভোল্টেজ টেস্ট ম্যাচটি দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে।
সান নিউজ / রাজীব