স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং প্রতিশ্রুত উন্নয়ন অর্থায়ন দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সহজ শর্তে ঋণ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) যৌথ থিম্যাটিক অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
উন্নয়ন অগ্রগতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক স্বল্পোন্নত দেশ উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন অর্জন করলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, বৈশ্বিক ঋণ সংকট এবং জ্বালানি নিরাপত্তার অনিশ্চয়তা সেই অগ্রগতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
তার মতে, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও শক্তিশালী, সমন্বিত এবং কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন। উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার করাও সময়ের দাবি।
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা
বক্তব্যে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, উত্তরণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে বাংলাদেশ উত্তরণকাল তিন বছর বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণের আগে, উত্তরণ চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈশ্বিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের তাগিদ
বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না, সেগুলোর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়ন সহায়তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বাণিজ্য সুবিধা এবং আর্থিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এলডিসি দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
দোহা পর্যালোচনা সম্মেলন নিয়ে আশাবাদ
রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের মার্চ মাসে কাতারে অনুষ্ঠিতব্য দোহা কর্মসূচির (ডিপিওএ) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা সম্মেলন স্বল্পোন্নত ও উত্তরণশীল দেশগুলোর জন্য গৃহীত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
তার মতে, এই সম্মেলন শুধু আলোচনা নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এলডিসি দেশগুলোর উন্নয়ন যাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও জলবায়ুগত সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই আহ্বান স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বাস্তব চ্যালেঞ্জকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। উন্নয়ন অগ্রগতি ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাও এতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
সান নিউজ/ কেএনআই