সরকারের বর্তমান ১০০ দিনের কার্যক্রমকে পূর্ববর্তী কর্তৃত্ববাদী শাসনের ধারাবাহিকতা বা সম্প্রসারণ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
বুধবার (১০ জুন) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকার যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে, তা জনগণের প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার মতে, এসব পদক্ষেপ অতীতের “ফ্যাসিবাদী শাসন কাঠামোরই প্রতিফলন”।
সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন
১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মূলত সীমান্ত পরিস্থিতি, পুশইন ইস্যু এবং অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
সংস্কার ও অধ্যাদেশ নিয়ে অভিযোগ
আযাদ দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করলেও সেগুলোর অনেকগুলোই যথাযথ আলোচনার সুযোগ ছাড়া সংসদে অনুমোদন করা হয়েছে। তার ভাষায়, এর ফলে প্রকৃত সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন কমিশনের কার্যক্রম হ্রাস বা বাতিল করা হয়েছে, যা সংস্কার কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে “উদ্বেগজনক” উল্লেখ করে বলেন, সাম্প্রতিক তিন মাসে ফৌজদারি মামলা ও সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। একই সময়ে হত্যাকাণ্ড, চুরি-ডাকাতি এবং বিভিন্ন সহিংস অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ
আযাদের দাবি অনুযায়ী, গত ১০০ দিনে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করে দায় চাপানো হয়েছে। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় সরকার কার্যকর ভূমিকা নেয়নি এবং আইনের প্রয়োগেও ঘাটতি রয়েছে।
জ্বালানি মূল্য ও অর্থনীতি নিয়ে সমালোচনা
তিনি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে, যা উৎপাদন খাত ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আন্দোলনের ঘোষণা
সংবাদ সম্মেলনে আযাদ আরও জানান, ১১ দলীয় ঐক্য জনগণের অধিকার আদায়ের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তার ভাষায়, “আমরা রাজপথে আছি এবং থাকব।”
তিনি সরকারের নীতি ও কার্যক্রমকে জনস্বার্থবিরোধী বলে অভিহিত করেন এবং দ্রুত নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানান।