নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১২ বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুকে দিনের পর দিন ধর্ষণের যে ভয়ংকর অভিযোগ জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে উঠেছে, তা কেবল একটি অপরাধের খবর নয়; এটি আমাদের সমাজের রক্ষকদের নৈতিক স্খলনের এক চরম ও লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত। যাদের ওপর সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পবিত্র দায়িত্ব, তাদেরই একজন যদি এমন
বিকৃত ও পাশবিক অপরাধে যুক্ত হন, তবে অসহায় মানুষ কার কাছে গিয়ে দাঁড়াবে?
খবর অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। তার মা ও ভাই ওই তদন্ত কেন্দ্রের মেসেই রান্নার কাজ করেন। এই অসহায়ত্ব ও দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা দিনের পর দিন শিশুটিকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন। ভয়ভীতি দেখিয়েছেন এবং টাকার লোভ দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন। এটি শুধু একটি ধর্ষণ নয়, এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার
চরম অপব্যবহার।
আমরা দেখতে পাচ্ছি, অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলমকে তার দায়িত্ব থেকে ‘প্রত্যাহার’ করে নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বলছে, তারা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। কিন্তু এখানেই একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার তীব্র আপত্তি এবং সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে।
তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্তকে কেন চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত বা ছুটিতে পাঠানো
হলো না?
পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা কোনো আইনি শাস্তি নয়। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, অনেক ক্ষেত্রে এটি অভিযুক্তকে জনরোষ থেকে বাঁচিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার একটি কৌশল মাত্র। একজন পুলিশ পরিদর্শক, যার বিরুদ্ধে একজন নাবালিকাকে ধর্ষণের মতো গুরুতর, জামিন-অযোগ্য এবং জঘন্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তিনি কীভাবে এখনও পুলিশের ইউনিফর্ম বা পরিচয়ে বহাল তবিয়তে থাকেন?
তিনি চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় তদন্ত প্রক্রিয়া কি কোনোভাবেই প্রভাবিত হবে না? তার ক্ষমতার দাপট ও প্রভাবের কারণে ভুক্তভোগী পরিবার কি সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার বদলে আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে না? সাধারণ কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে পুলিশ প্রশাসন কি তাকে কেবল এক জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় ‘সংযুক্ত’ করে রাখত, নাকি তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করত? অপরাধী যদি পুলিশের পোশাক পরা থাকে, তবে কি তার জন্য আইনের নিয়ম ভিন্ন হয়ে যায়?
একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের স্বার্থেই অভিযুক্তকে অবিলম্বে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা বা বাধ্যতামূলক ছুটিতে
পাঠানো অপরিহার্য। অভিযুক্তকে পদে বা পুলিশ লাইন্সে বহাল রেখে তদন্ত করলে সেই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে শুরুতেই জনমনে ঘোরতর সন্দেহ তৈরি হয়।
লোক দেখানো ‘প্রত্যাহার’ নয়, অবিলম্বে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে নিরপেক্ষ তদন্তের পথ সুগম করতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে ক্ষমতার চেয়ারে বসে কেউ সাধারণ মানুষের ওপর এমন পৈশাচিক নির্যাতন চালানোর সাহস না পায়। প্রশাসনকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে— অপরাধী যেই হোক না কেন, সে আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
[email protected]
ঠিকানা:- কামাল সরদার হাউজ, হোল্ডিং নং - ১১১, রুম নং- ০১, ওয়ার্ড নং - ০২, আলাওলপুর - ৮০৫০ , গোসাইর হাট, শরীয়তপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।