মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী বিবৃতির কঠোর সমালোচনা করেছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ত্রিতা পারসি। সম্প্রতি 'ইরনা'-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী এই বৈরিতার মূল কারণ কোনো আদর্শিক ভিন্নতা নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নিজস্ব ক্ষমতা ও একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখার মার্কিন জেদ।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পারসি বলেন, তেহরানের স্বাধীন বৈদেশিক নীতি এবং মার্কিন প্রভাবে আবর্তিত না হওয়ার প্রবণতাই মূলত ওয়াশিংটনকে ক্ষুব্ধ করেছে। সময়ের পরিক্রমায় এই সংঘাত যত গভীর হয়েছে, এর আসল চালচিত্রও তত বেশি উন্মোচিত হয়েছে। তাছাড়া, ওয়াশিংটন যে কেবল ইরানের সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য এসব বৈরী নীতি চালাচ্ছে, এমনটা মনে করা চরম রাজনৈতিক শিশুসুলভতা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ-অবরোধের কঠোর সমালোচনা করেন এই বিশ্লেষক। তার মতে, এসব কঠোর পদক্ষেপে তেহরানের সাধারণ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে খাদ্য সরবরাহ, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ আমদানি, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং সার্বিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এসব অবরুদ্ধকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে কতটা সাংঘর্ষিক এবং তা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না, তা নিয়ে বর্তমানে জোরালো আইনি প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে।
ত্রিতা পারসি আরও উল্লেখ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি দেশের সাধারণ জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু ও আরও গরিব করে তোলার এই পাঁয়তারা একপ্রকার যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ভিত্তি ও এর কার্যকারিতাকে এমন একপর্যায়ে এসে দুর্বল করে দিয়েছে, যেখানে আইন প্রয়োগের মূল তাৎপর্যই আজ প্রশ্নবিদ্ধ।
সান নিউজ / রাজীব