ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক কার্যক্রমে যৌথভাবে অংশ নেওয়ার ইসরায়েলি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় রিয়াদকে এই চুক্তিতে রাজি করানোর জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও শেষ পর্যন্ত তা নাকচ করে দেয় সৌদি আরব। সম্প্রতি ইসরায়েলি গণমাধ্যম 'হারেৎজ'-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক সহায়তার প্রতি একেবারেই সায় দেননি সৌদি যুবরাজ। মূলত তেল আবিবের সঙ্গে এই ধরনের প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য সহযোগিতা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সাধারণ জনগণের মাঝে তীব্র হাতাশা ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এমন কৌশলগত দূরত্ব বজায় রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদের সঙ্গে এই সামরিক অংশীদারত্বকে হাতিয়ার বানিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের পথ সুগম করতে চেয়েছিল ইসরায়েল, যা পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পথ খুলে দিতে পারত। তবে এই সংবেদনশীল প্রতিবেদন নিয়ে সৌদি প্রশাসনের তরফ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ঐতিহাসিক ও ভূরাজনৈতিক কারণে বর্তমানে ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। রিয়াদ বরাবরই তাদের পূর্বতন অবস্থানে অটল রয়েছে। দেশটির সাফ কথা—একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুনির্দিষ্ট সমাধান না আসা পর্যন্ত তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নই ওঠে না।
সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা ও বিমানবন্দরের ওপর হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রিয়াদের প্রধান কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। এই রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার একই বিমানবন্দরে চালানো আরেকটি হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত ও অন্তত ১১ জন আহত হন। এই ধারাবাহিক হামলায় সৌদির আকাশপথ ও সার্বিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হুতি-সৌদি সংঘাতে কিছুটা স্থবিরতা এসেছিল। তবে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে পুরোদমে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্থানীয় সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ২০১৫ সালের মার্চ থেকে সামরিক জোটে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সৌদি আরব।
সান নিউজ / রাজীব