বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাগে আনতে এবার জার্মানি ও ফ্রান্সের ওপর কড়া চাপ সৃষ্টি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে দেশ দুটিকে তাদের জরুরি মজুত উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামনেই মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন, তার আগে জ্বালানির মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতেই হোয়াইট হাউসের এমন কঠোর অবস্থান।
শুল্ক এবং সামরিক খরচ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্কে এমনিতেই টানাপোড়েন চলছে। এর মধ্যে ডিজেলের মজুত ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। একদিকে দেশের ভেতরে জ্বালানির চড়া দাম কমানোর চাপ, অন্যদিকে ইরান সংকট ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কথা মাথায় রেখে নিজেদের নিরাপত্তা মজুত বজায় রাখা—দুই সংকটের মাঝে পড়েছে ইউরোপ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে ইউরোপীয় কমিশন ও সদস্যরাষ্ট্রগুলোর জ্বালানি টাস্কফোর্স জরুরি বৈঠকে বসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যেন প্রায় ১২ কোটি ব্যারেল ডিজেল বাজারে ছাড়ে। তবে জার্মানি ও ফ্রান্সের যুক্তি হলো, আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা বা আইইএ-এর পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত না মিললে তারা নিজেদের নিরাপত্তা মজুত এভাবে খালি করতে পারে না। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ওপর রাশিয়া ও চীন নিজেদের বাজার সুরক্ষায় জ্বালানি রপ্তানি স্থগিত রাখায় ইউরোপ এখন অনেকটাই মার্কিন জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে তাদের নির্ধারিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তেল বাজারে ছাড়ছে। এখন তাদের মিত্রদেরও একই দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ পরিস্থিতি সামাল দিতে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর জরুরি ভিডিও কনফারেন্স ডাকার কথা ভাবছেন। সব মিলিয়ে, আসন্ন শীত আর ফসলের তোলার মৌসুম সামনে রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের শীতল লড়াই এখন চরমে।
সান নিউজ/রাজীব