নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। ঝাড়খণ্ডে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে হাজারো শিক্ষার্থী রাজ্য বিধানসভা অভিমুখে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কার ও অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সোমবার সকালে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো শিক্ষার্থী রাঁচিতে জড়ো হন। ট্রেন, বাস ও অন্যান্য যানবাহনে করে রাজধানীতে পৌঁছান তাঁরা। আন্দোলনে অংশ নেন রাজ্যে অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহতোও।
বিক্ষোভের মধ্যেই নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) সাবেক চেয়ারপার্সন এল খিয়াংতেককে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য সিআইডি। তিনি গত ২২ জুলাই পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা বিধানসভায় পৌঁছানোর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করলে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রবল জলধারার মধ্যেই নাচতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ দৃশ্য ভারতের সাম্প্রতিক নিট আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়েছে।
এক বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী বলেন, সরকারের উচিত তাঁদের কথা শোনা এবং দাবির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
বিক্ষোভ ঘিরে রাঁচিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও প্রধান সংযোগস্থলে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য। একই সঙ্গে রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ ঠেকাতে জেলার সীমান্ত, প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
বিক্ষোভের কারণে সোমবার রাঁচির বেশিরভাগ স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (জেএসএসসি) বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগেই মূলত এই আন্দোলনের সূত্রপাত। আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরকার-নিযুক্ত একটি প্যানেলের একাধিক দফা আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
প্রায় ১৬ দিন ধরে চলা আন্দোলন প্রত্যাহারে শিক্ষার্থীদের রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। রোববার অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ দফার বৈঠকেও কোনো সমঝোতা হয়নি। শিক্ষার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
রাজ্য সরকারের দাবি, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রায় ৯৮ শতাংশই মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁরা ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানালেও সরকার মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিল করতে রাজি হয়েছে।
এদিকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ছয়জন বিক্ষোভকারী অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এর আগে আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, লাঠি নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের মধ্যেই আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
সান নিউজ/ জামান