দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেছেন, এ পরিস্থিতির পেছনে দায়িত্বহীনতা ছিল এবং বিষয়টি বুঝতে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই।
রোববার (২১ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
‘গাফিলতির বিষয়টি স্পষ্ট’
ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, হামের সংক্রমণ ও এর ফলে শিশু মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথাসময়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমানো সম্ভব হতো বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
তার মতে, পরিস্থিতির কারণ অনুসন্ধানে দীর্ঘ তদন্তের চেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এখন বেশি জরুরি।
মাসের শেষেই টিকার আওতায় সব শিশু
স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি মাসের শেষ নাগাদ দেশের সব শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে স্থানীয় পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজন। এজন্য প্রতিটি এলাকায় মাইক্রোপ্ল্যানিংয়ের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের শনাক্ত করে টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যখাতে সরকারের কর্মপরিকল্পনা
ব্রিফিংয়ে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বাস্থ্যখাতের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান সম্প্রসারণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
উদ্বেগজনক হামের পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে সাড়ে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এক লাখেরও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতাও গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।