সিলেটে তীব্র দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। শহর ও গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১১ আগস্ট) সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত লোডশেডিংয়ে অনেক এলাকায় পানীয় জলের সংকটও দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুতের দুর্ভোগের প্রতিবাদে রোববার রাতে সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার এলাকায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন গ্রাহকরা।
নগরের জিন্দাবাজার এলাকার পোশাক ব্যবসায়ী জাবের আহমদ বলেন, ব্যবসা এমনিতেই খারাপ চলছে। এর মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জেনারেটর চালিয়ে দোকানের লাইট-ফ্যান সচল রাখতে হচ্ছে। এতে আয় থেকে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
ভার্থখলা এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জানান, বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ফ্রিজ ও এসি ঠিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। ফলে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা প্রয়োজন এমন অনেক ওষুধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা রাহেলা বেগম বলেন, “দিন-রাতে অন্তত সাত থেকে আটবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এমনকি রাত ১২টার পরও বিদ্যুৎ থাকে না। চাহিদা কম থাকার সময়েও কেন লোডশেডিং হচ্ছে, সেটি বুঝতে পারছি না।”
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সিলেটে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৪৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া গেছে ২০২ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ৪৫ মেগাওয়াট।
এর আগের দিন রোববার ২৩৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১৭৭ মেগাওয়াট। ওই দিন ঘাটতি ছিল ৫৬ মেগাওয়াট।
লোডশেডিং প্রসঙ্গে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, সারাদেশেই বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকট চলছে। জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেটিই গ্রাহকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
তিনি বলেন, “জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বাড়লে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সরবরাহে ঘাটতি থাকলে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।”
সান নিউজ/ হুমায়রা