কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা পরিষদে ঢেউটিন সহায়তার আবেদন নিয়ে যাওয়ায় এক কৃষককে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০০ টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজের বিরুদ্ধে।
গত সোমবার (২৯ জুন) মিরপুর উপজেলা পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা মহসিন উদ্দীন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য (মেম্বার) পদপ্রার্থী। তিনি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।
সোমবার তিনি তার এলাকার ছয়জনের জন্য ঢেউটিন সহায়তার আবেদন নিয়ে ইউএনও আরাফাত আমান আজিজের কার্যালয়ে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, আবেদনপত্র দেখে ইউএনও তাকে ‘দালাল’ বলে সম্বোধন করেন এবং আটকের নির্দেশ দেন। পরে প্রায় এক ঘণ্টা উপজেলা পরিষদে আটকে রাখার পর বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মহসিন উদ্দীন বলেন, ‘আমি ঢেউটিনের আবেদন জমা দিতে গিয়েছিলাম। ইউএনও আবেদন দেখে বলেন, “এই দালাল ধরা পড়ে গেছে।” এরপর নানা ধরনের কথা বলে আমাকে আটকে রাখা হয়। থানায় দেওয়ার কথাও বলা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যাদের নামে আবেদন করেছি, তারা সবাই বিষয়টি জানেন। এরপর আমার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।’
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও আরাফাত আমান আজিজ বলেন, মহসিন উদ্দীনের কাছে সাত-আটটি ঢেউটিনের আবেদনপত্র পাওয়া যায়। এছাড়া তার ব্যাগে বিভিন্ন ব্যক্তির সরকারি সেবা-সংক্রান্ত কাগজপত্রও ছিল।
তিনি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে দেখা যায়, তিনি বিভিন্ন মানুষের পক্ষ থেকে এসব কাগজ নিয়ে এসে তদবির করেন। এ অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, ‘আমরা যখন একটা মানুষকে মোবাইল কোর্ট করি, মোবাইল কোর্টের আওতায় আনি এত যাচাই-বাছাই করার সুযোগ নেই।’
মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া ও আটকে রাখার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তবে তাকে আমার হেফাজতে রাখা হয়েছিল।’
সান নিউজ/ জামান