দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নাগরিক সেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিশেষ করে ভাঙাচোরা সড়ক, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং অবকাঠামোগত সংকট পৌরবাসীর নিত্যদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার অনেক সড়ক ও ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়।
এছাড়া পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে পরিবেশ দূষণের সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে পৌরসভার আর্থিক সংকটও উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে বলে জানা গেছে। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধেও জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফুলবাড়ী পৌরসভার আয়ের কোন উৎস না থাকায় ফুলবাড়ী পৌরসভার উন্নয়ন কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না। প্রতি বছর ফুলবাড়ী পৌরসভা কর্তৃক টেন্ডারকৃত কাজগুলি গুনগতমান নিন্মমানের হওয়ায় টেকশই হচ্ছে না। যার প্রমান, ফুলবাড়ী পৌরসভা থেকে উর্বসী সিনেমাহলের পিছন পর্যন্ত যাইকা প্রকল্পের কাজটি নিন্মামানের করায় এখনেই ভেঙ্গে যাচ্ছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবেই ঠিকাদারের এমন নিন্মমানের কাজ করে আসছে।
বর্তমানে পৌরসভা থেকে যতগুলো টেন্ডার করা হয়েছে তার অংশিক কাজ নিন্মামানের কাজ। এর দায়ভার ফুলবাড়ী পৌর কর্তৃপক্ষের। পানি সরবরাহের ভূগবস্থ লাইনগুলি প্রায় নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। উন্নত মানের পাম্পগুলি স্থাপন হলেও ঘরগুলি তদারকির আভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফুলবাড়ী পৌরসভায় লক্ষাধিক ভোটার হলেও তারা তেমন কোন পৌর সেবা পাচ্ছে না।
ফুলবাড়ী পৌরসভার সচেতন নাগরিক সাবেক পৌর কাউন্সিলর আবু ফরহাদ বাচ্চু জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফুলবাড়ী পৌরসভায় আয়ের কোন উৎস না থাকায় এবং সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ায় ফুলবাড়ী পৌরসভার এমন অবস্থা দেখা দিয়েছে। তবে ফুলব্ড়াী পৌরসভা কে উন্নত করতে হলে সরকারি সহযোগীতা ছাড়া পৌরসভার উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, দ্রুত ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফুলবাড়ী পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহরে রূপান্তর করা হোক।
সান নিউজ/ জামান