কুড়িগ্রামের উলিপুরে কেসি রোডে হেলিপ্যাড হতে আমিন মোড় পর্যন্ত ৩.৩ কি.মি. বাইপাস সড়কের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উলিপুর বণিক সমিতির আয়োজনে মাসজিদুল হুদার সামনে (গবা মোড়) গণস্বাক্ষরসহ এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
কুড়িগ্রাম জেলার বাজিবপুর, রৌমারী, চিলমারী এ ৩ উপজেলার মানুষের জেলায় প্রবেশ করার প্রবেশদ্বার উলিপুর উপজেলা। এ উপজেলাটিতে একটি পৌরসভা ও ১৩ ইউনিয়ন সম্পৃক্ত। যাতে প্রায় ৫ লাখেরও অধিক মানুষের বসবাস। এতো বড়ো উপজেলাসহ ৩ উপজেলার মানুষের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে উলিপুর শহর।
দীর্ঘদিন থেকে সকাল, দুপুর ও মধ্যরাত পর্যন্ত কেসি রোডে জ্যাম লেগেই থাকে। ভারি যানবাহন থেকে লোড-আনলোড করার তেমন সুব্যবস্থাও নেই এই সড়কে। মানুষের জীবনমান ক্ষানিকটা বদলালেও বদলায়নি কেসি রোড়ের প্রশস্ততা ফলে যানজট লেগেই আছে এবং দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে সর্বসাধারণ।
দীর্ঘ সময়ের যানজটের কারনে বিশেষ মুহুর্তে ফায়ার সার্ভিসের যথাযথ সেবা থেকেও বঞ্চিত এই অঞ্চলের মানুষ। চিলমারী ও উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রোগী পরিবাহী এম্বুলেন্স ও ভারি পরিবহন, যাত্রী পরিবহন গাড়িগুলোও এসে আমিন মোড় থেকে হ্যালিপ্যাড পর্যন্ত জ্যামে পড়ে যায়। ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকতে হয় এই জ্যামে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হয় রোগি ও তার সাথে থাকা মানুষ। সাধারণ পথচারীরাও এই যানজটের কারনে বিড়ম্বনা শিকার হয় প্রতিদিন। এই দুর্ভোগ কাটানোর জন্যই উলিপুর বাসির পক্ষে বাইপাস সড়ক চাই বাস্তবায়নে উলিপুর বণিক সমিতি এ মানববন্ধন করে।
মানববন্ধনে বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন কুড়িগ্রাম জেলা উলিপুর উপ-কমিটির সভাপতি হামিদুর রহমান লিটন এর সঞ্চালনায় সাবেক পৌর মেয়র তারিক আবু আলা চৌধুরীর নেতৃত্বে বক্তব্য রাখেন, বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল হোসেন চাঁদ, কুড়িগ্রাম জেলা জামায়েতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নিজাম উদ্দিন , সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র হায়দার আলী মিয়া, জামায়েতে ইসলামির জেলা কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য আব্দুল জলিল সরকার,উপজেলা এনসিপিদর আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসাইন, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান বুলবুল, বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সাজুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, শ্রমিক সংগঠনেরে নেতৃবর্গ।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের উলিপুরেরে মানুষের দাবি ও চেষ্টার ফসল হিসেবে সরকার ৩.৩ কি.মি. একটি বাইপাস সড়কের অনুমোদনসহ একনেকে ৬৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অর্থবরাদ্দ দিয়েছে। অথচ হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার তাদের নিজ সার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে এই বাইপাস সড়ক যাতে না হয় সে লক্ষ্য জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। যারা বাইপাস সড়কের বিরোধিতা করে উলিপুরের উন্নয়নকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে আমরা তাদের ধিক্কার জানাই।
বক্তারা আরো বলেন, বাইপাস সড়ক বাস্তবায়নে যদি কোনো গড়িমসি করা হয় তাহলে আজকের মানববন্ধনের চেয়েও বড়ো কর্মসূচি দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, ৪ জুন উলিপুরে বাইপাস সড়ক বাস্তবায়ন কমিটির দাবিতেও একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
সান নিউজ/ জামান