সারাদেশ

শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি, ২৯ মরদেহ উদ্ধার 

নূরুল আজিজ চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবির ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নারী-পুরুষ-শিশুসহ ২৯ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এর আগে দুপুরে ওই লঞ্চটি উদ্ধার হয়। এরপর জেলা প্রশাসন উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করে। তবে ফায়ারসার্ভিসের উদ্ধার অভিযান চলবে।

এদিকে লঞ্চডুবির ঘটনায় ইতোমধ্যে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে।

আগেরদিন রোবাবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শীতলক্ষ্যা নদীর সৈয়দপুর কয়লাঘাট এলাকায় নির্মিতব্য শীতলক্ষ্যা ব্রিজের কাছে লঞ্চডুবির ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল।

ডুবে যাওয়া লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জ থেকে যাত্রী নিয়ে মুন্সিগঞ্জে যাচ্ছিল।

হতদের মধ্যে যাদের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে তারা হলো, মুন্সীগঞ্জ সদরের নুড়াইতলী এলাকার রুনা আক্তার (২৪), মুন্সীগঞ্জের মোলাকান্দি চৌদ্দমোড়া এলাকার সুমন আলী ব্যাপারীর ছেলে সোলেমান ব্যাপারী (৬০), তাঁর স্ত্রী বেবী বেগম (৬০), মুন্সীগঞ্জ মালপাড়া হারাধন সাহার স্ত্রী সুনিতা সাহা (৪০), মুন্সীগঞ্জ সদরের উত্তর চর মসুরা অলি উল্লাহর স্ত্রী পাখিনা (৪৫), একই এলাকার আরিফের স্ত্রী বিথি (১৮), তাঁদের সন্তান ১ বছর বয়সী আরিফা (১), মুন্সীগঞ্জ সদরের প্রীতিময়ের স্ত্রী প্রতিমা শর্মা (৫৩), মুন্সিগঞ্জের মোল্লাকান্দি চরকিশোরগঞ্জের শামসুদ্দিন (৯০), তাঁর স্ত্রী রেহেনা বেগম (৬৫), বরিশালের উজিরপুর উটরা এলাকার হাফিজুর রহমানের স্ত্রী তাহমিনা (২০), মুন্সিগঞ্জের দক্ষিণ কেওয়ার দেবিন্দ্র দাসের ছেলে নারায়ণ দাস (৬৫), তাঁর স্ত্রী পারবতি রানী দাস (৪৫), বন্দরের কামরুজ্জামান, স্বর্ণা দম্পতির শিশু সন্তান আব্দুল জমীর (০২), মুন্সীগঞ্জ সদরের নুরপুর রিকাবি এলাকার শাহ আলম মৃধা (৫৫), মুন্সীগঞ্জ সদরের রতনপাতরের স্ত্রী মহারানী (৩৭), যাত্রাবাড়ি শনিআখড়ার আনোয়ার হোসেন (৫৫), তাঁর স্ত্রী মাকসুদা বেগম (৩০), মুন্সিগঞ্জ সদরের শেয়াগাও পূর্বপাড়া মিঠুন মিয়ার স্ত্রী ছাউদা আক্তার লতা (১৮), শরীয়তপুর নরিয়া এলাকার নুরবকশীর ছেলে আব্দুল খালেক (৭০), ঝালকাঠির কাঠালিয়া এলাকার তোফাজ্জেল হোসেনের মেয়ে জিবু (১৩), বরিশালের স্বরূপকাঠি এলাকার মো. সেকান্দারের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৫০), এবং বন্দরের দক্ষিণ সাবদী এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে মো. নয়ন (২৯)।

এদিকে লঞ্চ ডুবির পর শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে জমায়েত হতে থাকে নিখোঁজদের স্বজনরা। তাদের আহাজারি আর কান্নায় সেখানকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। ডুবে যাওয়ার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর সোমবার দুপুর সোয়া একটার দিকে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় নদীর তলদেশ থেকে টেনে লঞ্চটি নদীর পূর্ব তীরে নিয়ে রাখে।

লঞ্চটি উদ্ধার করে যখন তীরে নিয়ে আসা হয় তখন ভেতরে কেবল লাশের স্তুপ দেখা যায়। লঞ্চের ভেতর থেকে শিশু, নারী ও পুরুষের ২৩ টি লাশ উদ্ধার করা হয়। ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় একটি লাশ। সোমবার বিকেলে আর কোনো লাশ না পাওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এর আগে লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যে রাত ১২টার দিকে ৫ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে নারী ১৬ জন, পুরুষ ৯ জন ও শিশু ৪ জন।

উদ্ধার করা মৃতদেহের মধ্যে নিখোঁজ স্বজনদের না পেয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঘটনার এত ঘণ্টা পর স্বজনদের জীবিত পাওয়ার আশা তারা ছেড়ে দিয়েছেন তারা। তবে অন্তত প্রিয়জনের মৃতদেহটি চান তারা।

স্বজনের মৃতদেহের অপেক্ষা করছিলেন দাউদুল ইসলাম। তিনি বলেন, মিরপুর থেকে চাকরির জন্য নারায়ণগঞ্জ থেকে লঞ্চে ওঠে তার আত্মীয় মো. সুজন। এখনো তার মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। আমরা তার মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে এখানে এসেছি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নির্মণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর ১৬ নম্বর পিলারের নিরাপত্তকর্মী মোহাম্মদ হালিম বলেন, এসকেএল-৩ (এম: ০১২৬৪৩) নামের একটি কোস্টার জাহাজ পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে অন্তত ২০০ মিটার লঞ্চটিকে টেনে নিয়ে যায়। এরপর লঞ্চটি যাত্রীসহ ডুবে যায়।

অপরদিকে, কোস্টার জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চডুবির ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববিকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।

অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক মো রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে চার সদসস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, লাশ দাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে। উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করা হয়েছে। নৌ চ্যানেল খুলে দেয়া হয়েছে। যাতে নদীতে নৌযান চলাচল করতে পারে।

তিনি আরও জানান, এসকেএল-৩ নামের ওই লাইটার জাহাজটিকে আটক করতে নৌ পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (ঢাকা) মো. সালেউদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান শেষ করা হলেও ফায়ার সার্ভিস অভিযান চলমান রেখেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য পাওয়া না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে।

সান নিউজ/আরআই

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

১৯২৭ -২০২৭: গৌরীপুর পৌরসভা

ব্রিটিশ আমলে ১৯২৭ সালের পহেলা জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত ময...

মুন্সীগঞ্জ সদরে ৫০০ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মো. দেল...

মশক নিয়ন্ত্রণের জন্য আসছে ‘১০০-তে ১০০’ কর্মসূচি

আগামীকাল থেকে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে ‘১০০-তে ১০০’ কর...

মাটিরাঙায় বিনামূল্যে স্তন ও জরায়ুর মুখ ক্যানসারের পরীক্ষা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত 

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় অসহায় নিম্মবিত্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দি...

মাটিরাঙায় বিনামূল্যে স্তন ও জরায়ুর মুখ ক্যানসারের পরীক্ষা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত 

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় অসহায় নিম্মবিত্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দি...

মুন্সীগঞ্জ সদরে ৫০০ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মো. দেল...

মশক নিয়ন্ত্রণের জন্য আসছে ‘১০০-তে ১০০’ কর্মসূচি

আগামীকাল থেকে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে ‘১০০-তে ১০০’ কর...

১৯২৭ -২০২৭: গৌরীপুর পৌরসভা

ব্রিটিশ আমলে ১৯২৭ সালের পহেলা জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত ময...

ভালুকায় দেশীয় মাছ রক্ষায় বিশেষ অভিযান: বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ ও ধ্বংস

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় পরিচালিত...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা