গাজীপুরের টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলী (১৫) নিহত হওয়ার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্বাসে তারা সড়ক ছেড়ে দেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে গাজীপুরা বাঁশপট্টি এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা ও আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিকেল ৩টার দিকে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় নিরাপদে সড়ক পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শনিবার রাতে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মাদরাসার শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলী নিহত হন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় একটি আধুনিক ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ, জেব্রা ক্রসিং স্থাপন এবং মহাসড়কে সার্বক্ষণিক একজন ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানান।
অবরোধের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রায় তিন ঘণ্টার আলোচনার পর তাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে সড়ক ছেড়ে দেন।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শেষ করেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে দাবিগুলো দ্রুত কার্যকর করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এরপর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। বর্তমানে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যানের চাপায় তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলী (১৫) নিহত হন।
সান নিউজ/ হুমায়রা