আড়িয়াল খাঁ নদী
সারাদেশ

আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনের আতঙ্ক, স্থায়ী বাঁধ নির্মানের দাবি  

মাদারীপুর প্রতিনিধি

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলে আতংকে থাকে মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার খুনেরচর বাসী। আড়িয়াল খাঁ নদী ভাংগনের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষার জন্য স্থায়ী বাঁধের দাবী এলাকাবাসীর।

বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই আবারও ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র স্রোতে কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের খুনের চর, সাহেবরামপুর, কয়ারিয়া, মোল্লারহাটসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক নদীভাঙন। চলতি বর্ষা মোসুমে বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটছে শত শত পরিবার।

খুনেরচর এলাকার ৭০ বছর বয়সী সলেমান খা বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন দেখা দেয়। এতে গড়ে ১০০ থেকে ২০০ পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়। অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। কেউ স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউ ভাড়া বাসায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের খুনের চর এলাকায়। এছাড়া মাদারীপুর সদর উপজেলার মহিষের চর এলাকাতেও নদীভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা বিলীন হওয়ায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন মালত বলেন, “প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমাদের আতঙ্ক শুরু হয়। কখন ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়, সেই ভয় নিয়ে দিন কাটাতে হয়। অনেকেই সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।”

আনোয়ার বাদশা নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “প্রতিবছর জিও ব্যাগ ফেলা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো নদীর স্রোতে কার্যকারিতা হারায়। স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হবে না।”

রহিম সন্যামতের স্ত্রী হালিমন বেগম বলেন, “আমাদের রাতের ঘুম নেই। নদী একটু একটু করে এগিয়ে আসছে। সন্তানদের নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। সরকার যেন দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়, এটাই আমাদের একমাত্র দাবি।”

এলাকাবাসীর অনেকের অভিযোগ, প্রতিবছর সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হচ্ছে না। তাই আড়িয়াল খাঁ নদে দ্রুত একটি স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফীন বলেন, নদীভাঙন রোধে সরকারের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রতিবছরের নদীভাঙনের অভিশাপ থেকে রক্ষা পাবে হাজারো মানুষ। সেই সঙ্গে টিকে থাকবে তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার শেষ সম্বল।

সান নিউজ/ জামান

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মুন্সীগঞ্জে পাঁচ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিক...

নলকূপ বসানোর সময় মাটি থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন জ্বলে উঠলো

কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ (টিউবওয়েল) বসানোর জন্য মা...

মুন্সীগঞ্জে ৯০০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আমঘাটা গ্রাম থে...

ক্ষমতা ধরে রাখার অগ্নিপরীক্ষায় নেতানিয়াহু, চোখ নেসেটের ১২০ আসনে

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেন...

রাশমিকাকে নিয়ে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বিতর্কে বিজয়ের ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও

কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানে রাশমিকা মান্দানার সঙ্গে আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযো...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা