সংগৃহিত ছবি
সারাদেশ

উত্তাল সাগরে বন্ধ মাছ ধরা, সংকটে জেলে পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে কয়েক দিন ধরে উত্তাল রয়েছে বঙ্গোপসাগর। গভীর সমুদ্রে বড় বড় ঢেউ সৃষ্টি হওয়ায় মাছ ধরার পরিবেশ সম্পূর্ণ অনুকূল নয়। ফলে শত শত মাছ ধরার ট্রলার নিরাপদে উপকূলে ফিরে এসেছে এবং অধিকাংশ জেলে সমুদ্রে যেতে পারছেন না।

পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার জেলেরা জানান, টানা চার দিন ধরে তারা মাছ ধরার জন্য সাগরে যেতে পারেননি। যেসব জেলে জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে গিয়েছিলেন, তারাও পর্যাপ্ত মাছ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছেন। এতে প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো চরম সংকটে পড়েছে।

ঢেউয়ের কারণে জাল ফেলাই কঠিন

জেলেদের ভাষ্য, বর্তমানে সাগরের পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল যে জাল ফেলা যেমন কঠিন, তেমনি জাল টেনে তোলাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কয়েক দিন স্বাভাবিকভাবে মাছ ধরার সুযোগ মিললেও নতুন করে বৈরী আবহাওয়া শুরু হওয়ায় তাদের আবারও তীরে ফিরে আসতে হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, একের পর এক দুর্যোগ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময়ই মাছ ধরার সুযোগ সীমিত থাকে। এতে সংসারের খরচ চালানো এবং ঋণের বোঝা সামলানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও স্বস্তি ফেরেনি

সরকার ঘোষিত ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ আহরণ নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর গত ১২ জুন থেকে জেলেরা আবার সমুদ্রে যেতে শুরু করেছিলেন। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এক মাস পার হওয়ার আগেই বৈরী আবহাওয়া শুরু হওয়ায় মাছ ধরা আবারও ব্যাহত হয়েছে।

ফলে যারা নতুন আশায় সমুদ্রে নেমেছিলেন, তাদের অনেকেই কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরেছেন।

বছরের অধিকাংশ সময়ই কাজহীন জেলেরা

উপকূলীয় জেলেদের দাবি, কখনও সরকারি নিষেধাজ্ঞা, কখনও নিম্নচাপ, আবার কখনও ঘূর্ণিঝড় বা বৈরী আবহাওয়ার কারণে বছরের দীর্ঘ সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এতে ধারদেনা করে পরিবার চালাতে হচ্ছে অনেককে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মা ইলিশ সংরক্ষণ, জাটকা রক্ষা এবং সামুদ্রিক মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব। সব মিলিয়ে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় বছরে প্রায় ২৫০ থেকে ২৭০ দিন মাছ ধরা ব্যাহত হয়।

আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বাড়বে মাছের উৎপাদন

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা আশাবাদী, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে জেলেরা ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ পর্যাপ্ত পরিমাণে আহরণ করতে পারবেন।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তার মতে, জেলেরা যদি সরকারি নিয়ম মেনে মাছ শিকার অব্যাহত রাখেন এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তাহলে চলতি মৌসুমে ভালো উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

জীবিকার লড়াইয়ে অনিশ্চয়তার ছায়া

উপকূলের অসংখ্য পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস মাছ ধরা। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার ধারাবাহিক প্রভাবে তাদের জীবন-জীবিকা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য একদিনও সমুদ্রে যেতে না পারা মানেই আর্থিক সংকট আরও গভীর হওয়া।

জেলেদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি এই সংকট মোকাবিলায় সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি, বিকল্প কর্মসংস্থান এবং দুর্যোগকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

১৯২৭ -২০২৭: গৌরীপুর পৌরসভা

ব্রিটিশ আমলে ১৯২৭ সালের পহেলা জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত ময...

মুন্সীগঞ্জ সদরে ৫০০ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মো. দেল...

মশক নিয়ন্ত্রণের জন্য আসছে ‘১০০-তে ১০০’ কর্মসূচি

আগামীকাল থেকে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে ‘১০০-তে ১০০’ কর...

মাটিরাঙায় বিনামূল্যে স্তন ও জরায়ুর মুখ ক্যানসারের পরীক্ষা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত 

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় অসহায় নিম্মবিত্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দি...

মাটিরাঙায় বিনামূল্যে স্তন ও জরায়ুর মুখ ক্যানসারের পরীক্ষা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত 

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় অসহায় নিম্মবিত্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দি...

মুন্সীগঞ্জ সদরে ৫০০ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মো. দেল...

মশক নিয়ন্ত্রণের জন্য আসছে ‘১০০-তে ১০০’ কর্মসূচি

আগামীকাল থেকে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে ‘১০০-তে ১০০’ কর...

১৯২৭ -২০২৭: গৌরীপুর পৌরসভা

ব্রিটিশ আমলে ১৯২৭ সালের পহেলা জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত ময...

ভালুকায় দেশীয় মাছ রক্ষায় বিশেষ অভিযান: বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ ও ধ্বংস

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় পরিচালিত...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা