ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা একেবারেই ভালো হলো না বাংলাদেশ দলের জন্য। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার পথ নিজেদের জন্য বেশ কঠিন করে তুলেছে তাওহিদ হৃদয়ের দল।
জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টাইগারদের ব্যাটিং লাইনআপ পুরোপুরি ধসে পড়ে এবং মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় ইনিংস। এরকম লজ্জাজনক হারের ফলে দলের নেট রানরেট তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে -১.৯৮০-এ। ফলে টুর্নামেন্টের ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে শুরুতেই বড় ধরনের বিপাকে পড়ল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
তিন দলের এই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের সিরিজে ফাইনাল নিশ্চিত করার আগে প্রতিটি দল লিগ পর্বে দুটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে। নিজেদের পরবর্তী ও বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আগামী ২০ অক্টোবর শারজার মাঠে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
তবে তার আগেই ১৯ অক্টোবর মাঠে গড়াচ্ছে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের মধ্যকার লড়াইটি, যে ম্যাচের ফলের ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভাগ্য। প্রথম ম্যাচে এমন ভরাডুবির পরও ফাইনালে পৌঁছানোর সমীকরণ এবং সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে মিলিয়ে যায়নি, তবে এর জন্য এখন অন্য দলের ম্যাচের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য ফাইনালে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও স্বস্তিদায়ক পথটি তৈরি হতে পারে ১৯ অক্টোবরের ম্যাচে। যদি জিম্বাবুয়ে তাদের প্রথম ম্যাচের ফর্ম ধরে রেখে আফগানিস্তানকে হারিয়ে দেয়, তবে জিম্বাবুয়ে সরাসরি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলবে।
সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ সহজ হয়ে যাবে এবং ২০ অক্টোবর আফগানিস্তানকে হারালেই সরাসরি ফাইনাল নিশ্চিত করার পথ উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
তবে এর উল্টোটা ঘটলে, অর্থাৎ জিম্বাবুয়ে যদি আফগানিস্তানের কাছে হেরে যায়, তবে বাংলাদেশের সামনে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
সেক্ষেত্রে ২০ অক্টোবর আফগানিস্তানকে কেবল হারালেই চলবে না, বরং প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ার কারণে মারাত্মতভাবে পিছিয়ে থাকা নিজেদের ঋণাত্মক নেট রানরেটকে বড় ব্যবধানে উন্নীত করতে হবে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ম্যাচের বিশাল ব্যবধানের এই হার শুধু পয়েন্ট টেবিলই নয়, মানসিকভাবেও দলকে চাপে ফেলেছে।
তবে শারজার কন্ডিশনে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের সেরাটা দিয়ে আফগানদের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেওয়াই এখন তরুণ এই দলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সান নিউজ / রাজীব