এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের হতাশা পেছনে ফেলে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর দলের কোচিং প্যানেলে বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার ডেভিড হেম্পকে প্রধান কোচের দায়িত্ব দিয়ে এবার সাতবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। শক্তিশালী অজিদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ খেলায় বাংলাদেশ দলের সামনে অপেক্ষা করছে এক কঠিন ও রোমাঞ্চকর পরীক্ষা।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি মাঠে গড়াচ্ছে আগামীকাল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই লড়াইয়ের আগে নিজেদের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও লক্ষ্যের কথা অকপটে জানিয়েছেন নতুন কোচ ডেভিড হেম্প। তার কাছে মাঠে শুধু ফলাফলই শেষ কথা নয়, বরং বিশ্বের সেরা দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ দল কেমন মনোভাব নিয়ে মাঠে লড়ছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিসিবির পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে ডেভিড হেম্প বলেন, আমরা বিশ্বের সেরা নারী দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি, এটা লুকানোর কিছু নেই। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই ফরম্যাটেই তারা এক নম্বর। তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিষয়টি মানসিকভাবে সামলে নেওয়া। তাদের দলে অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে।
তবে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত বা নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে নারাজ নতুন কোচ। মাঠে সবসময় ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। হেম্প আরও যোগ করেন, ‘আমাদের খেলায় ইতিবাচক থাকতে হবে। আমরা চাই না এক সপ্তাহ পর বাংলাদেশে ফিরে মনে হোক যে ইশ, এভাবে খেললে ভালো হতো, ওভাবে খেললে ভালো হতো। আমরা যেভাবে সবকিছু করি, শুধু ম্যাচ খেলা নয়, ম্যাচের দিকে তাকানো এবং ম্যাচ নিয়ে ভাবার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক থাকতে হবে। আমরা যদি সেটা করতে পারি, তাহলে ইতিবাচকভাবেই সামনে এগোতে পারব।
অস্ট্রেলিয়ার পেস ও বাউন্স সমৃদ্ধ কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই টাইগ্রেসদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কোচ। এর আগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং প্রায় দেড় বছর আগে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় ক্রিকেটারদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হেম্পের বেশি সময় লাগেনি। দলের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় এটি তাদের প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হলেও অনুশীলন ক্যাম্প বেশ ভালো হয়েছে। একটি প্রস্তুতি ম্যাচের পাশাপাশি এখানকার উইকেটের বাড়তি গতি ও বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নিতে মেয়েরা দারুণ চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, আগামীকাল উদ্বোধনী ম্যাচের পর সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ আগামী ১১ ও ১৪ অক্টোবর ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত হবে। নতুন এই কোচের হাত ধরে বাংলাদেশ নারী দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সান নিউজ / রাজীব