রাজনৈতিক উত্তেজনার আঁচ এবার সরাসরি গিয়ে পড়ল ক্রিকেটের পিচে। আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (এপিএল)-এর আসন্ন আসরে দেশটির ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর হয়ে পাকিস্তানি কোনো ক্রিকেটার বা কোচিং স্টাফের অংশ নেওয়ার সব দরজাই একপ্রকার বন্ধ করে দিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দেশটির গণমাধ্যমের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আসন্ন এই টুর্নামেন্টে খেলার জন্য কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারকেই এবার ছাড়পত্র বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া হবে না।
চলতি বছরেই এপিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটি নতুন আয়োজনে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরের শেষের দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে হতে যাওয়া এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে মোট পাঁচটি দল অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে টুর্নামেন্টের হাওয়া লাগতেই এপিএলের দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি দল ‘বালখ জওয়ানান’ এবং ‘কান্দাহার ওয়ারিয়র্স’ তাদের স্কোয়াড শক্তিশালী করতে পাকিস্তানের চারজন তারকা ক্রিকেটারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। শুধু তাই নয়, দলের ডাগআউট সামলানোর জন্য পাকিস্তানের দু'জন সাবেক পরিচিত মুখকে কোচিং প্যানেলে ভেড়ানোরও জোরালো আলোচনা চালিয়েছিল তারা।
কিন্তু বাধ সাধল খোদ ক্রিকেট বোর্ড ও সরকারের নীতি। জানা গেছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই পিসিবি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমান কিংবা সাবেক—কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারের জন্যই এপিএলের দুয়ার খোলা রাখা যাবে না। বোর্ডের এমন কড়া বার্তার পর সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় ও কোচদের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সেই প্রাথমিক আলোচনাগুলোও আর সামনে এগোয়নি। পিসিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, খেলোয়াড়দের খুব পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে নিজেদের কোনো রকম সম্পৃক্ততা রাখা যাবে না।
মূলত দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার বর্তমান রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং কূটনৈতিক জটিলতাই এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের এই বরফাবস্থা ক্রিকেটেও বেশ ভালোভাবেই প্রভাব ফেলছে। এর আগে চলতি বছরের পিএসএল (পাকিস্তান সুপার লিগ)-এর সময়ও দুদৈশের ক্রিকেট সম্পর্কে এর ধাক্কা লেগেছিল, যখন বেশ কজন শীর্ষ সারির আফগান ক্রিকেটার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কারণে পিএসএল থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিদেশি বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে আফগান খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিয়েও এসিবি কিছু কড়া বিধিপ্রয়োগ করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ভূ-রাজনৈতিক বিরোধই এই ক্রিকেটীয় দূরত্ব তৈরি করছে। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে আফগান ভূখণ্ডে আশ্রয় দেওয়ার বিষয় নিয়ে পাকিস্তান বরাবরই অভিযোগ করে আসলেও, কাবুল সরকার সেই অভিযোগ বরাবরই উড়িয়ে দিয়েছে। আর মাঠের বাইরের এই রাজনৈতিক ও আস্থার সংকটই এখন দিন দিন ময়দানের খেলায় বড় প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সান নিউজ/রাজীব