ইরানের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এর ফলে এখন আলোচনার জন্য উপযুক্ত ইরানি নেতৃত্ব খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে গত সোমবার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ইয়ংস্টাউন শহরে রিপাবলিকান পার্টির একটি নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন ট্রাম্প। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, “ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে সম্ভবত আমরা বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি। এখন আমরা বুঝতেই পারছি না, ইরানে কাদের সঙ্গে কাজ করব। কেউ দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।”
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট হিসেবে যাঁদের কথা যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করেছিল, তাঁদের কেউই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন।
ট্রাম্পের ভাষায়, “সত্যি বলতে, কার সঙ্গে আলোচনা করব, তা ঠিক করাই আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। আমার মনে হয়, আমরা বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি।”
তবে নিজের আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রায় আট মাসের যুদ্ধে ইরান তার বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাঁর দাবি, দেশটি ১৫৯টি নৌযান হারিয়েছে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, দেশটির যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজগুলো এখন সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে।
এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। পারস্য ও ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্সের (ইউকেএমটিও) তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর থেকে হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর এলাকায় অন্তত ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সান নিউজ/ রাব্বি