সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে এই হামলার জন্য সরাসরি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ভোরের দিকে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক হামলায় মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সৌদির রাষ্ট্রীয় সূত্রের দাবি, এই নাশকতার কারণে বৃহত্তর পরিসরে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় বা বিঘ্ন ঘটেনি।
এই স্পর্শকাতর হামলার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। তুরস্ক, কাতার, আরব লীগ এবং মিসরের বিশ্বখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রভাবশালী মুসলিম দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছে। সৌদি জোটের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ধ্বংসাবশেষ এবং বিস্ফোরকের আলামত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করেই নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই ধ্বংসাত্মক কাজটি হুথি বিদ্রোহীরাই ঘটিয়েছে। যদিও বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি বরাবরের মতো তাদের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
এদিকে মদিনার মতো পবিত্র নগরীতে এই হামলার জেরে ইয়েমেনের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও বেশি ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠেছে। এর কড়া প্রতিশোধ হিসেবে সৌদি সমর্থিত জোট বাহিনী ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র বিমান হামলা শুরু করেছে। হুথিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই পাল্টা বোমাবর্ষণে সাধারণ মানুষের অনেক প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা স্থানে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটলেও, ইসলামের পবিত্র ভূখণ্ড বা মদিনার মতো পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করে এমন হামলার নজির অত্যন্ত বিরল। এই নতুন আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ফের এক চরম ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সান নিউজ/রাজীব