গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন।
পরিদর্শনের সময় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে এক সাব- অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রথমে তাকে সাময়িক বরখাস্তের (সাসপেন্ড) নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে অভিযোগকারী রোগীকে ১ হাজার ৩০ টাকা ফেরত দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেন। আজ ২ আগস্ট রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী জানতে পান রোগীদের সরকারি ঔষধ না দিয়ে বাইরে থেকে ক্রয় করতে বাধ্য করা করা হচ্ছে। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুর রহমানকে সতর্কতা পত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবিবার সকালে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উপস্থিত হন।
পরিদর্শনের শুরুতে তিনি কুকুরের কামড়ে আহত শামসুন্নাহার নামে এক রোগীর সঙ্গে কথা বলেন। মন্ত্রী ওই রোগীর কাছে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে ১ হাজার ৩০ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে তা ক্রয় করে আনা হয়।
রোগীর স্বজনরা মন্ত্রীকে জানান, সকালে এক নারীকে কুকুরে কামড়ালে তাকে ভ্যাকসিনের জন্য হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু হাসপাতাল থেকে জানানো হয় ভ্যাকসিন নেই এবং তা বাইরে থেকে ক্রয় করতে হবে। ঠিক সেই মুহূর্তেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। অভিযোগ শুনে ক্ষুব্ধ হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দকে ফোন করে ভ্যাকসিন মজুত থাকা সত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে ক্রয় করতে বাধ্য করার অভিযোগে সেকমো হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।
এ সময় হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও বিবেচনা করবেন বলে জানান মন্ত্রী।
ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দ বলেন, আমরা জানতাম না মন্ত্রী পরিদর্শনে আসবেন। আমি বগুড়া আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলাম। মন্ত্রী আসার খবর পেয়ে শুধু হাজিরা দিয়ে চলে আসি। পরে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। যাওয়ার পথে মন্ত্রী অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীকে অভিযোগকারী রোগীর ১ হাজার ৩০ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সান নিউজ/ জামান