| বিষয় | বিবরণ |
| ঘটনা | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক স্পাই ড্রোন মাঝআকাশ থেকে নামাল ইরান। |
| স্থান | হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমাঞ্চল ও পারস্য উপসাগরীয় এলাকা। |
| অভিযানকারী | ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্স (আইআরজিসি)-এর ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট। |
| ড্রোনের উদ্দেশ্য | ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোপন অবস্থান ও রণকৌশল শনাক্ত করা। |
| উড্ডয়নের স্থান | পারস্য উপসাগরের উপকূলবর্তী কোনো একটি দেশের গোপন ঘাঁটি। |
| বর্তমান পরিস্থিতি | ইরানের কঠোর শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে। |
মূল প্রেক্ষাপট: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে পথটি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— ওয়াশিংটন শর্ত না মানলে এই জলপথের কপাট খুলবে না!
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ফের নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। জলপথটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের মধ্যেই তেহরানের আকাশসীমায় বড় ধরনের গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্স (আইআরজিসি)-এর ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিটের সফল অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক স্পাই ড্রোন জব্দ করার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমাঞ্চলে অত্যন্ত নিখুঁত ও অভিনব এক সাইবার-ইলেকট্রনিক অপারেশনের মাধ্যমে মার্কিন বিমানবাহিনীর এই ড্রোনটিকে অক্ষত অবস্থায় মাটিতে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয় ইরানি বাহিনী।
আইআরজিসি-এর দাবি অনুযায়ী, মার্কিন এই গোয়েন্দা ড্রোনের মূল লক্ষ্য ছিল পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর জলসীমায় মোতায়েন থাকা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট অবস্থান এবং গোপনীয় রণকৌশল শনাক্ত করা। পরবর্তীতে ড্রোনটির ভেতরে থাকা মেমোরি ও প্রযুক্তিগত ডেটা বিশ্লেষণ করে ইরানি নৌ-বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই গোপন গুপ্তচর মিশন পরিচালনার জন্য ড্রোনটিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেরই কোনো একটি মিত্র দেশের গোপন উপকূল থেকে আকাশে ওড়ানো হয়েছিল।
এর আগেও মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার সফল রেকর্ড রয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনীর।
এদিকে বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে আকস্মিক সামরিক আগ্রাসন চালায়। ওই হামলার ঠিক পরপরই কঠোর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় আইআরজিসি।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই তেল রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং ওই পথ দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক বা জ্বালানিবাহী তেলবাহী ট্যাংকার স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারছে না।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটন যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের পূর্বনির্ধারিত এবং কঠোর শর্তগুলো মেনে না নেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই কৌশলগত প্রণালী কোনোভাবেই জনসাধারণের বা আন্তর্জাতিক জাহাজের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না।
একদিকে মার্কিন সামরিক শক্তি এবং অন্যদিকে তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থান—পারস্য উপসাগরজুড়ে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সান নিউজ / রাজীব