বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে আরও একটি অনন্য মাইলফলক গড়লেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত জোড়া গোল করে তিনি ভেঙে দিয়েছেন দীর্ঘদিনের বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে এসেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডটি যৌথভাবে ধরে রেখেছিলেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজা এবং মেসি। তবে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুইবার জালের দেখা পেয়ে নিজের গোলসংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেন মেসি। ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের নতুন রেকর্ড এখন তার দখলে।
তবে নিজের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে যাওয়ায় কোনো হতাশা প্রকাশ করেননি ক্লোজা। বরং আর্জেন্টাইন মহাতারকার কৃতিত্বকে সম্মান জানিয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সাবেক জার্মান তারকা।
রেকর্ড হারানোর পর ক্লোজা বলেন, “আমার দৃষ্টিতে লিওনেল মেসিই সর্বকালের সেরা ফুটবলার। তাকে অভিনন্দন, সত্যিকারের এক চ্যাম্পিয়ন।”
বিশ্বকাপে ক্লোজার অর্জনও কম নয়। ২০০২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনি ২৪ ম্যাচে করেছিলেন ১৬ গোল। অন্যদিকে বর্তমানে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন মেসি। ২৮ ম্যাচে তিনি পৌঁছে গেছেন ১৮ গোলের অনন্য উচ্চতায়।
যদিও গোলসংখ্যার দিক থেকে এখন এগিয়ে মেসি, কিছু পরিসংখ্যানে এখনও এগিয়ে আছেন ক্লোজা। বিশ্বকাপে তার গোল রূপান্তরের হার প্রায় ২৪ শতাংশ, যেখানে মেসির হার ১৫ শতাংশের কাছাকাছি। এছাড়া প্রতি গোল করতে ক্লোজার গড় সময় লেগেছে ১১২ মিনিট, আর মেসির ক্ষেত্রে তা ১৩৮ মিনিট।
তবে এই পরিসংখ্যানের বাইরেও রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। ক্লোজা ছিলেন মূলত একজন নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার, যার প্রধান দায়িত্ব ছিল গোল করা। অন্যদিকে মেসি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্লে-মেকার এবং আক্রমণভাগের সৃজনশীল চালিকাশক্তি হিসেবে বেশি পরিচিত। সেই ভূমিকায় খেলেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে পৌঁছে যাওয়া তার অর্জনকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
ফুটবলবিশ্বের অনেকের মতে, বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির এই নতুন রেকর্ড শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবেও বিবেচিত হবে।