রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, তিনি শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ বিষয়ে বঙ্গভবন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে সরকারি মহলে আলোচনা চলছে। মনোনয়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি
রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। যদিও সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত ব্যক্তিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
পদত্যাগের কারণ নিয়ে জল্পনা
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া দায়িত্ব ছাড়ার পর কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়া কিংবা চিকিৎসার জন্য বিদেশ সফরের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব তথ্যের কোনোটি এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সুত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি দেশের বাইরে চিকিৎসাকালীন হাসপাতাল ও হোটেলে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার সাথে একাধিক বার ফোনালাপের কারনে বর্তমান সরকারের সাথে দুরত্ব সৃষ্টি হয়।
সাংবিধানিক বিধান কী বলছে?
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা তিনি অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও আলোচনা তৈরি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের দাবিও উঠেছিল। তবে সে সময় কোনো সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা হয়নি।
পদত্যাগের পর কোথায় থাকবেন
বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের পর মালয়েশিয়ায় চলে যাবেন, সেখানে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে বসবাস করবেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে।
এখন নজর সরকারি ঘোষণার দিকে
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়লেও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সম্ভাব্য প্রার্থী এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া—সবকিছুই নির্ভর করছে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও বঙ্গভবনের ঘোষণার ওপর।
সান নিউজ/ জামান