সারাদেশ

আশ্রায়নের ঘর পেয়ে দুঃখ ঘুচেছে ১৫ পরিবারের

কামরুজ্জামান স্বাধীন, উলিপুর (কুড়িগ্রাম): হামার চিন্ত্যাতে আচিল ন্যা হামড়া এই জীবনোত পাকা বাড়ী পামো। এলা আর বন্যা আইসপ্যার পাবার নয়, নদীও ভাইংগব্যার নয়। শ্যাখের বেটির ঘর পায়া হামার কষ্ট দূর হইছে। কথা গুলো বলতে বলতে দুথচোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল, রবিদাস সম্প্রদায়ের ষাটোর্দ্ধ বৃদ্ধা শ্রীমতি মঞ্জরী রবিদাসের। শুধু মঞ্জরী রবিদাস নয় এরকম গৃহহীন, ভূমিহীন ভাসমান ১৫টি রবিদাস পরিবার কুড়িগ্রামের উলিপুরে আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় গড়ে তোলা রবিদাস পল্লীতে আশ্রয় পেয়ে খুব খুশি।

আরও পড়ুন: উলিপুরে ফাঁস দিয়ে বৃদ্ধার আত্মহত্যা

সোমবার (১০ এপ্রিল) সরেজমিন ওই পল্লীতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। প্রশাসনের এ উদ্যোগে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সুধীজন ও সচেতন মহল।

উপজেলা নিবার্হী অফিসারের দপ্তর সুত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ন-৩ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার নদী ভাঙ্গন কবলিত হাতিয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর কামারটারী গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে রবিদাস পল্লী। সম্প্রতি সেই পল্লীতে নদী ভাঙ্গা গৃহহীন ভাসমান ১৫টি রবিদাস পরিবারের কাছে ঘর গুলো হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রতি পরিবারের জন্য ২ শতক জমিসহ ২ রুম বিশিষ্ট আধা পাকা টিন সেড ১টি ঘর, ১টি বাথরুম ও ১টি করে নলকুপ রয়েছে। চর ডিজাইনের প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ২লাখ ৮৪ হাজার ৫থশ টাকা। ১৫টি ঘরের জন্য মোট ব্যয় হয়েছে ৪২ লাখ ৬৭ হাজার ৫শ টাকা। ৫০ বছর ধরে ব্রহ্মপুত্র নদীর কিনারে বাঁধের রাস্তায় ঝুঁপরি ঘরে জীবন কাটিয়েছি।

আরও পড়ুন: ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হলেন শহিদুল ইসলাম

বছর বছর নদী ভাঙ্গে, হামার ঠিকানাও ভাঙ্গে। নদী হামাক তাড়ে (তাড়িয়ে) নিয়ে বেড়ায়। বর্ষাকালে ঝড়িত (বৃষ্টি) ভিজি। এখন আর নদী ভাইংগব্যার নয়, ঝড়িত ভেজা নাইগব্যার নয়। নিজের মত করি এই পল্লীত বসবাস কইরব্যার পামো। বেটা-বেটিক স্কুলোত ভর্ত্তি করি পড়বার পামো। এভাবে আশ্রায়নের ঘর পাওয়ার প্রশান্তির অনুভুতি প্রকাশ করলেন জোসনা রবিদাস, বিধবা ফেলানী রবিদাস, শ্যামল রবিদাস ও জয়ন্তী রবিদাস। গৃহহীন এই পরিবার গুলো সরকারের দেয়া এমন সুন্দর ঘর পেয়ে বেজায় খুশি। তারা জানান, ভগবান শ্যাখ হাসিনাকে বাঁচি থুক , ভালো করুক।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার শোভন রাংসা বলেন, দলিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী যারা রবিদাস সম্প্রদায় বলে পরিচিত, এখনো তারা সমাজের মুল স্রোতের সাথে সামিল হতে পারেনি। ফলে তারা নানা অভাব অনটনের মধ্যে যাযাবর জীবন যাপন করে। তাই তাদের সমাজের মুল ধারার সাথে একিভুত করার জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

গৃহ প্রদানের মাধ্যমে ১৫টি রবিদাস পরিবারের স্থায়ী ভাবে আবাসন সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী, তিনি চান এ দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিক সুবিধা পাক। প্রতিটি নাগরিক যেন সমান অধিকার ও সুযোগ সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করার লক্ষে রবিদাস পল্লী নিমার্ন করা হয়েছে। এর ফলে সুবিধা বঞ্চিত এই মানুষগুলো তাঁর নিজ পেশায় যেমন মনোযোগী হতে পারবেন একই সাথে নিজেদের ভবিষ্যত সম্পর্কে সচেতন হবেন।

কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এম এ মতিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রথম সরকার প্রধান যিনি আশ্রয়হীনদের জন্য আধাপাকা ঘর এবং ২ শতক জায়গা দান করেছেন।

রবিদাস যারা সমাজে দরিদ্র এবং অবহেলিত শ্রেণির। এদের জন্য কেউ কখনো চিন্তা করেনি। এই সরকার যারা সমাজে একেবারে অবহেলিত, শোষিত, বঞ্চিত তাদের সকলকে খাদ্য, নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও থাকার ব্যবস্থা করেছে।

সান নিউজ/এনকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মাটিরাঙায় বিনামূল্যে স্তন ও জরায়ুর মুখ ক্যানসারের পরীক্ষা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত 

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় অসহায় নিম্মবিত্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দি...

মুন্সীগঞ্জ সদরে ৫০০ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মো. দেল...

মশক নিয়ন্ত্রণের জন্য আসছে ‘১০০-তে ১০০’ কর্মসূচি

আগামীকাল থেকে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে ‘১০০-তে ১০০’ কর...

১৯২৭ -২০২৭: গৌরীপুর পৌরসভা

ব্রিটিশ আমলে ১৯২৭ সালের পহেলা জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত ময...

ভালুকায় দেশীয় মাছ রক্ষায় বিশেষ অভিযান: বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ ও ধ্বংস

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় পরিচালিত...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা