সারাদেশ

ভোলার জেলেদের উপর সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভোলা: ভোলার মধ্য মেঘনার দ্বীপ চর মদনপুর ইউনিয়ন। ওই চরের ১০ হাজার জেলে ও চরবাসীর চোখে মুখে আতঙ্ক । নদীতে জাল ফেলতে যেতে পারছেন না সাধারণ জেলেরা। গেলেই গুলির মুখে পড়তে হচ্ছে।

তিন দিন আগে গুলির শব্দে আশ্রয়ন ও গুচ্ছগ্রামের নারী পুরুষরা ঘর ছেড়ে ধান ক্ষেত্রে শুয়ে থেকে কোন প্রকারে প্রাণে বাঁচেন। ওই চরের কয়েকশ নারীপুরুষ এভাবেই তাদের আতংকের কথা জানান।

৯০ উর্ধ্ব বয়সী আব্দুর শহিদ মাঝি জানান, ছোট বেলায় বর্গীদের হানা দেয়ার কথা শুনেছি। এখন দেখছি তারা আবার ফিরে এসেছে। শনিবার ৫টি স্পিডবোট ও দুটি ট্রলার যোগে এসে এরা অস্ত্র নিয়ে চরে হানা দেয়। হামলা চালায়। ত্রাস সৃষ্টি করে।

জেলে মহসিনের স্ত্রী রেহানা বেগম, রিয়াজের স্ত্রী ফাইমা বেগম, নাজুমুদ্দিনের স্ত্রী লুৎফা বেগম, হালিমা বেগম, আকলিমা বেগম, রোকেয়া বেগম, সাবরিনা বেগম , মহিউদ্দিনের বিবি গোলেনুর বেগম, চৌকিদার মহিউদ্দিন, জমিরআলী, মোঃ আলমগীর জানান, ওই ইউনিয়নের ১০ হাজার মানুষের এক মাত্র উপার্জনের অবলন্বন হচ্ছে নদীতে মাছ ধরা ও কৃষি কাজ করা। তিন দফা জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়ে ক্ষেত্রের ফসল বিনস্ট হয়েছে। আবার ইলিশের ডিম ছাড়ার সময় মাছ ধরা বন্ধ ছিল। এখন মাছ ধরার সময়। কিন্তু বর্গীবেশি একটি চক্রের কারণে তারা নদীতে জাল ফেলতে পারছেন না।

শনিবার সকেট জামাল, নিরব বাহিনী নদীতে খুটা গেড়ে নিষিদ্ধ খুঁচচি জাল, বেড় জাল বসিয়ে নদীর দখল করে নেয়। নিষিদ্ধ জাল দিয়ে এরা লাখ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ জেলেদের তাড়া করছে। সাধারণ জেলেরা এর প্রতিবাদ করলে গুলিবর্ষণ করা হয় ।

খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নান্নু ডাক্তারের নির্দেশে ওই এলাকায় ছুটে যান ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ ( চৌকিদার) মহিউদ্দিন, আব্দুল মান্নান, মোঃ হেলাল উদ্দিন ।

সন্ত্রাসীরা তিনগ্রাম পুলিশকে বেধে পিটিয়ে আহত করে। আশ্রয়ন ও চরবাসীদের দাবি নদী কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। জেলেরা নদীতে মাছ ধরবে। সবার সমান অধিকার। অথচ নিরব, জামাল বাহিনী সাধারণ জেলেদের বৈধ জালও ফেলতে দিচ্ছে না। এই সব ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই মদনপুর চরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জেলেরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের শাস্তি দাবি করছেন। এদিকে মোঃ জামাল উদ্দিন সকেট জানান, এটি তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। তার মাছের ব্যবসা রয়েছে। কিন্তু জেলেদের উপর তিনি বা তার পরিবারের কেউ হামলা করে নি।

খবর পেয়ে ওই এলাকায় পুলিশ কিছু সময় অবস্থান নেয়। পুলিশ ফিরে গেলে সন্ত্রাসীরা আবারও নদীর দখল অব্যাহত রাখে। অসহায় ইউপি মেম্বারও। দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কাওছার হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। খুচঁচি জাল অপসারণে শীঘ্রই তিনি অভিযান শুরু করবেন।

সান নিউজ/আইআর/এনকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার ৩

মুন্সীগঞ্জে এক নারীর অজ্ঞাতে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ক...

রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার না হলে নতুন শাসকও শেখ হাসিনা হয়ে উঠবেন: নাহিদ

রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক সংস্কার না হলে ক্ষমতায় যিনিই...

চাইলেই রাখতে পারতেন টাকা, সততার পথ বেছে নিলেন অটোচালক

অটোরিকশায় যাত্রীর ফেলে যাওয়া টাকাসহ ব্যাগ পেয়ে তা...

মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে যা বললেন তটিনী

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই দর্শক...

নলকূপ বসানোর সময় মাটি থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন জ্বলে উঠলো

কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ (টিউবওয়েল) বসানোর জন্য মা...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা