সারাদেশ

বিদ্রোহী প্রার্থীকেই মনোনয়ন দিলো আ.লীগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, দিনাজপুর : বিদ্রোহী প্রার্থীদেরকে এবার দলীয় মনোনয়ন না দেয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি খাজা মঈনুদ্দিন।

২০১৫ সালের নির্বাচনে খাজা মঈনুদ্দিন নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ওই নির্বাচনে তিনি ‘মোবাইল মার্কা’ নিয়ে ২৯৯ ভোট পান। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরতুজা সরকার মানিক ৬৪৩৩ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। একই নির্বাচনে সেবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন শাহজাহান সরকার।

খাজা মঈনুদ্দিন স্থানীয় সাংসদ সদস্য ও সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের ছোট ভাই। মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দলীয় অনেকেই বলছেন, গোপনে একক প্রার্থী হিসেবে মঈনুদ্দিনের নাম কেন্দ্রে প্রস্তাব করায় তাকেই দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

তবে এরই মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে খাজা মঈনুদ্দিনের বিগত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে জানা যায়, ফুলবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে এবার চারজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে খাজা মঈনুদ্দিন, বিএনপির পক্ষ থেকে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাদত হোসেন শাহাজুল, বর্তমান পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতির ছোট ভাই সাবেক ছাত্র নেতা মাহামুদ আলম লিটন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মুর্তুজা সরকার মানিক।

আরও জানা যায়, এবার নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ৩২ জন পুরুষ এবং ১০ জন নারী মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

অভিযোগকারী ফুলবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান বলেন, এখানে কয়েকবার মিটিং করে একবার প্যানেল মেয়র মামুনুর রশিদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং তিনি রাজিও ছিলেন। পরে কোনো অদৃশ্য কারণে তিনি আর দাঁড়ালেন না। আবার নব্য আওয়ামী লীগ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল কবিরকেও দাঁড়াতে বললেও তিনিও প্রার্থী হননি।

তিনি বলেন, আমাদের এমপি মহোদয় থানা ওয়ার্কিং মিটিংয়ে নাম প্রস্তাব করার কোনো সুযোগ দেননি। দলীয় সিদ্ধান্ত না নিয়েই গোপনে খাজা মঈনুদ্দিনের নাম পাঠিয়ে দেন তিনি। এটি জানতে পেরে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড এবং ওয়েবসাইটেও ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ করেছি।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান বাবুল বলেন, খাজা মঈনুদ্দিন বিগত পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও সেই সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকায় দলীয় প্রার্থীকে সর্মথন জানিয়ে ভোটের মাঠে নীরব ভূমিকা পালন করেন। তা নাহলে তার ভোটসংখ্যা ২৯৯ হওয়ার কথা নয়। এ ব্যাপারে প্রার্থী খাজা মঈনুদ্দিন বলেন, আমি ভোটে দাঁড়িয়েছিলাম কিন্তু পরে আমাকে দল থেকে বলার পর আমি নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিলাম।

অপরদিকে নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় খাজা মঈনুদ্দিনকে সভাপতি পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়ার পর পুনরায় তাকে আর বহাল করা হয়নি বলে জানান দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ।

সান নিউজ/এম/এস

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মুন্সীগঞ্জে পাঁচ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিক...

নলকূপ বসানোর সময় মাটি থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন জ্বলে উঠলো

কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ (টিউবওয়েল) বসানোর জন্য মা...

মুন্সীগঞ্জে ৯০০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আমঘাটা গ্রাম থে...

রাশমিকাকে নিয়ে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বিতর্কে বিজয়ের ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও

কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানে রাশমিকা মান্দানার সঙ্গে আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযো...

ক্ষমতা ধরে রাখার অগ্নিপরীক্ষায় নেতানিয়াহু, চোখ নেসেটের ১২০ আসনে

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেন...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা