সারাদেশ

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নতুন করে ভাঙন শুরু

গোয়ালন্দ প্রতিনিধি

বন্ধ থাকা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ১ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করে গতকাল সেখানে তীব্র স্রোতের কারণে প্রায় ৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) সরজমিনে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ইতোমধ্যে উপরের বাড়িঘরগুলো সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা জামান সরদার বলেন, গতবার এক রাতে ৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে চলে যায়। সেসময় অনেকেই প্রয়োজনীয় মালামাল সরাতে পারে নাই। তাই আমরা প্রস্তুত থাকি যাতে দ্রুত সরানো যায়।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাট থেকে ছোটভাকলা ইউনিয়নের অন্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার এলাকাজুড়ে ইতোমধ্যে ভাঙন শুরু হয়েছে। দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশে ভাঙনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে, গত ১লা জুন দুপুরে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন স্পিডবোটযোগে গোয়ালন্দের ভাঙন কবলিত স্থানগুলো পরিদর্শন করেন।

ভাঙন পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, দৌলতদিয়ার সবগুলো ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট এবং দেবগ্রাম ইউনিয়নের ভাঙন কবলিত অন্যান্য এলাকা পরিদর্শন করে ঝুঁকির বিষয়টি দেখেছি।

একই সাথে ফেরিঘাট এলাকায় জরুরি ব্যবস্থা নিতে বিআইডব্লিউটিএ এবং অন্যান্য এলাকায় জরুরি কাজ শুরুর জন্য জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাত দিয়ে জেলা প্রশাসক আরো বলেন, গোয়ালন্দে পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৭০০-৮০০ মিটার এলাকায় ভাঙনের দেখা দিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে যতটুকু পারা যায় কাজ করা হবে। এছাড়া বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পদ্মার পানি ও স্রোত আরও বৃদ্ধি পেলে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, এভাবে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে বড়ো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত নদী তীর সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে নদী ভাঙনের ফলে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলো চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের দাবি, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথি দাস বলেন, নদী ভাঙনকবলিত এলাকা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার ৩

মুন্সীগঞ্জে এক নারীর অজ্ঞাতে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ক...

রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার না হলে নতুন শাসকও শেখ হাসিনা হয়ে উঠবেন: নাহিদ

রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক সংস্কার না হলে ক্ষমতায় যিনিই...

চাইলেই রাখতে পারতেন টাকা, সততার পথ বেছে নিলেন অটোচালক

অটোরিকশায় যাত্রীর ফেলে যাওয়া টাকাসহ ব্যাগ পেয়ে তা...

নলকূপ বসানোর সময় মাটি থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন জ্বলে উঠলো

কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ (টিউবওয়েল) বসানোর জন্য মা...

মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে যা বললেন তটিনী

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই দর্শক...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা