সারাদেশ
ঝড়ে ওড়ে গেছে নিরাপদ জীবনের স্বপ্ন

ছেঁড়া পলিথিনের নিচে কাটছে ৮ বছর!

মোহাম্মদ শাওন, (রাঙ্গাবালী) পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোট বাইসদিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভূইয়ারহাওলা গ্রামের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে একটি ভাঙাচোরা আশ্রয়। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, ঝড়ে ভেঙে পড়া কোনো পরিত্যক্ত ছাউনি। কিন্তু কাছে গেলেই বোঝা যায়— এটাই একটি পরিবারের শেষ ঠিকানা।

এখানেই বসবাস চারটি ছোট্ট মেয়ে সন্তান আর তাদের অসহায় বাবা-মায়ের। বহু বছর আগে কালবৈশাখীর ভয়াল ঝড়ে ভেঙে গিয়েছিল তাদের ছোট্ট ঘরটি। সেই রাতে শুধু টিন আর বাঁশ ওড়ে যায়নি, ওড়ে গিয়েছিল নিরাপদ জীবনের স্বপ্নও।

এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সাত থেকে আট বছর। তবু ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি পরিবারটির। বর্তমানে পুরোনো বাঁশ, ছেঁড়া পলিথিন আর জোড়াতালি দেওয়া দুটি চাল দিয়ে কোনো রকমে মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করেছে তারা।

বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। ঝড় শুরু হলেই বুক কেঁপে ওঠে পুরো পরিবারের। রাতভর জেগে থাকে শিশুরা। কেরোসিনের কুপির ক্ষীণ আলোয় আতঙ্ক নিয়ে মায়ের গা ঘেঁষে বসে থাকে চারটি ছোট্ট মেয়ে।

পরিবারের কর্তা গাছ কেটে ও দিনমজুরির কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালান। কিন্তু আয় এতটাই সামান্য যে খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয়।

মেয়েদের লেখাপড়া করানো, ভালো পোশাক দেওয়া কিংবা নিরাপদ একটি ঘরের ব্যবস্থা করা যেন তাদের কাছে স্বপ্নেরও বাইরে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারিভাবে রাঙ্গাবালী উপজেলায় অনেক অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে ঘর দেওয়া হলেও এই পরিবারটি বছরের পর বছর অবহেলিত রয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন— তাহলে সরকারি ঘর পায় কারা? যাদের অর্থ আছে, পরিচয় আছে কিংবা প্রভাব আছে— শুধু তারাই কি সরকারি সুবিধা পাবে? আর প্রকৃত গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো কি শুধুই তালিকার বাইরে পড়ে থাকবে?

অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি পরিবার বছরের পর বছর পলিথিনের নিচে মানবেতর জীবন কাটালেও তাদের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই। উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি কি কখনও পড়েনি এই অসহায় পরিবারটির দিকে? নাকি কোনো অদৃশ্য কারণে তাদের ভাগ্যে জোটেনি একটি সরকারি আশ্রয়?

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এমন পরিবারগুলোকেই সরকারি সহায়তার আওতায় আনা সবচেয়ে বেশি জরুরি। কারণ উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ তখনই সফল হবে, যখন ভূইয়ারহাওলার মতো গ্রামের অসহায় মানুষগুলোও নিরাপদে মাথা গোঁজার একটি ঠাঁই পাবে।

সরেজমিন দেখা যায়, আজও কালবৈশাখীর সময়ে আকাশ কালো হলেই আতঙ্কে কেঁপে ওঠে পরিবারটি। পলিথিন দুলে ওঠে বাতাসে, কুপির আলো নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়, আর চারটি শিশুর চোখে ভেসে ওঠে ভয়ের ছাপ। তখন মনে হয়— উন্নয়নের হাজার গল্পের মাঝেও, এই পরিবারটির জীবন যেন এখনও কেবল বেঁচে থাকার এক নির্মম সংগ্রাম।

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু 

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট-এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক পদে বিএনপি কেন্দ্রীয...

কিশোরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৬ 

কিশোরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলশিক্ষার্থী ও এক মাইক্রোবাসচালক নিহত হয়ে...

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই। শুক্রবার...

বিশ্ব গণমাধ্যমে গুরুত্ব পেল রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর আন্তর্জাতিক...

গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণে কাজ করছে সরকার: ফখরুল

বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে...

জিয়ার স্বনির্ভর আন্দোলন তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে: এ্যানি

পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শ...

১১ দলীয় জোটকে বিদায় খেলাফত মজলিসের

১১ দলীয় জোট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে খেলাফত মজলিস। শনিবা...

ঝালকাঠিতে গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার 

ঝালকাঠি শহরের টিএনটি রোড এলাকায় চুরির উদ্দেশ্যে বাসায় ঢুকে গৃহবধূ মলিনা রায...

বৃহত্তর ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের নির্বাচন

এনটিভি’র নূরুদ্দিন আহমেদ সভাপতি ও আরটিভি’র মোহাম্মদ মোমিন হোসেন ব...

হাম উপসর্গে আরও মৃত্যু ৬ শিশুর, মোট মৃত্যু ৮১৬

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা