বাংলাদেশ ফুটবল লিগের আজকের দিনটি কেবলই গোলের রোমাঞ্চে ভরপুর ছিল। মাঠজুড়ে যেন গোল উৎসবের বান ডেকেছিল। এদিন অনুষ্ঠিত হওয়া চার ম্যাচে সামগ্রিকভাবে মোট ১৮ বার জালে বল জড়িয়েছে। বিশেষ করে দুটি ম্যাচেই একাই হয়েছে ১৩টি গোল, যা দর্শকদের দারুণ এক রোমাঞ্চকর ফুটবল উপহার দিয়েছে। কিংস অ্যারেনায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা যেমন দাপট দেখিয়েছে, তেমনি গোপালগঞ্জেও ছিল ফর্টিসের একচ্ছত্র আধিপত্য।
কিংস অ্যারেনায় ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ধরাশায়ী করল বসুন্ধরা
ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে রেকর্ড চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র এক মিনিট পার হয়েছে, তখনই নেপালি উইঙ্গার মনীশ দাঙ্গির নিখুঁত শটে এগিয়ে যায় কিংস। এর ঠিক চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তরুণ ফরোয়ার্ড সাব্বির হোসেন।
ম্যাচের শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খেয়ে পুরোপুরি ব্যাকফুটে চলে যায় ঢাকা ওয়ান্ডারার্স। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ওয়ান্ডারার্সের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন তাদের গোলরক্ষক জসিম উদ্দিন; প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা।
বিরতির পর এই সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগায় কিংসের ফরোয়ার্ডরা। ৪৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন সাব্বির। এরপর ৬৯ মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখান তারকা ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন। ৭৯ মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্যবধান ৫-০ করেন মিডফিল্ডার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এসেও গোলের ক্ষুধা কমেনি স্বাগতিকদের। ৮৭ মিনিটে অধিনায়ক রবসন ডস সিলভায়ের নিখুঁত ক্রস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল তুলে নেন রাকিব। আর অতিরিক্ত সময়ে (ইনজুরি টাইমে) রাকিবের বাড়ানো পাস থেকেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাব্বির। এই বিশাল জয়ে চার ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে বসুন্ধরা কিংস।
গোপালগঞ্জে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে গোলবন্যায় ভাসাল ফর্টিস
কিংসের পাশাপাশি গোল উৎসবে পিছিয়ে ছিল না ফর্টিস এফসিও। গোপালগঞ্জেও দেখা গেছে গোলবন্যার এক দুর্দান্ত চিত্র। যদিও প্রথমার্ধে স্বাগতিক ব্রাদার্স ইউনিয়নের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি ফর্টিস এবং কোনো গোলের দেখা পায়নি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি বদলে যায় খেলার দৃশ্যপট। মাত্র ১৫ শতাংশ সময় বল পায়ে রাখতে পারা ব্রাদার্সের ওপর রীতিমতো ঝড় বয়ে যায়।
খেলার ৫৬ মিনিটে জাতীয় দলের মিডফিল্ডার মোহাম্মদ ইব্রাহিমের পায়ে বল পেয়ে লিড নেয় ফর্টিস এফসি। এরপর ৬৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইনসান হোসেন। ৭৫ মিনিটে গোলের খাতা খোলেন পা ওমর বাবু। এরপর ৮১ মিনিটে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি আদায় করে নেন তিনি।
ফর্টিসের পঞ্চম গোলটিতেও বড় অবদান ছিল এই ফরোয়ার্ডের; তাঁর নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়ান স্টিভেন চুকউডি। আর অতিরিক্ত সময়ে রাফায়েল টুডুর দুর্দান্ত এক গোলে ৬-০ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ফর্টিস। এই দুর্দান্ত জয়ে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে জায়গা করে নিয়েছে দলটি।
সান নিউজ / রাজীব