ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা একটি সুদৃঢ় একাডেমিক ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে চাই। এক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদানের জন্য তিনি ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যালামনাইদের প্রতি আহ্বান জানান।
আজ শনিবার(০৩ অক্টোবর) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন বিভাগ আয়োজিত ‘পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
বিভাগীয় চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. সৈয়দা লাসনা কবীরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম সম্মানিত অতিথি এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ ও বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. আকা ফিরোজ আহমদ স্বাগত বক্তব্য দেন। সহকারী অধ্যাপক মিসেস শেহরীন আমিন ভূঁইয়া ও মো. রবিউল ইসলাম অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বতন্ত্র ও অনন্য করে তুলতে হলে আমাদের শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের সর্বোচ্চ মানের পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে হবে। এটি কোনো গোপন বিষয় নয় যে, সরকারি অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার পরই তহবিলে আর তেমন কিছু অবশিষ্ট থাকে না। তাই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে নিজস্ব বা স্বতন্ত্র তহবিল গঠন করা জরুরি। এক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে । আমাদের শিক্ষার্থী ও গবেষকরা যাতে সুষ্ঠুভাবে গবেষণা চালাতে পারেন, সেজন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রত্যাশা করি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা প্রদান করা আবশ্যক।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তার পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। জনপ্রশাসনকে বছরের পর বছর একটি অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনপ্রশাসনের দূরত্ব ক্রমশ বেড়েছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থান এই বাস্তবতায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা অসীম সাহসিকতা নিয়ে এগিয়ে এসেছিল—শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং বৈষম্যহীন ও আইনের শাসনভিত্তিক একটি ন্যায়পরায়ণ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে। ঠিক এখানেই গবেষকদের গবেষণাপত্রগুলোর গুরুত্ব নিহিত। একটি গণ-আন্দোলন হয়তো কোনো অন্যায় শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলতে পারে, কিন্তু একটি উন্নত ও নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা ও একাডেমিক গবেষণা।
উপাচার্য বলেন, জনপ্রশাসনকে পুরোনো অভ্যাসগুলো বর্জন করতে হবে। আমরা এমন একটি প্রশাসন গড়ে তুলতে চাই-যা হবে উন্মুক্ত, নিরপেক্ষ এবং জনগণের কথাকে প্রকৃত অর্থে গুরুত্ব দেবে। কর্মকর্তা ও প্রশাসকদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, তাঁদের দায়িত্ব হলো নাগরিকদের সেবা করা, তাঁদের ওপর শাসন চালানো নয়।
সাননিউজ/বান্না