ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে আজ ভারতের রাজধানীতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাকে এক কথায় দিল্লির ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা বলা চলে। মহালয়ার দিন ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ‘ককরোচ’ নামের আন্দোলনকারী সংগঠনটি।
এই বিক্ষোভকে পুরোপুরি নস্যাৎ করতে গতকাল শুক্রবার রাত থেকেই কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে পুরো রাজধানী। দিল্লি পুলিশের অতিসক্রিয়তা এবং নজিরবিহীন কড়াকড়ির জেরে গোটা শহরজুড়ে এখন চলছে এক থমথমে পরিস্থিতি।
অঘোষিত লকডাউন ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ দুপুর বারোটায় বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, বহু আগে থেকেই রাজধানীজুড়ে শুরু হয় ধরপাকড়। যন্তর মন্তরের আশেপাশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং অলিগলি শক্তিশালী ব্যারিকেডে আটকে দিয়েছে পুলিশ। শহরটির বিভিন্ন প্রান্তে চলছে কঠোর নাকা চেকিং। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একে অঘোষিত জরুরি অবস্থা বা লকডাউন বললেও কম বলা হয়।
নিরাপত্তার চাদরে পুরো দিল্লিকে মুড়ে ফেলতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় বিভিন্ন আবাসন, মেস ও কলোনিতে কড়া বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যাতে আজকের দিনে বাসিন্দারা বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে পা না রাখেন।
গণপরিবহন ব্যবস্থার ওপরও জারি করা হয়েছে কঠোর নিয়ন্ত্রণ। রাজধানীর লাইফলাইন খ্যাত মেট্রো নেটওয়ার্কের বহু স্টেশনের শাটার ডাউন রাখা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে একের পর এক ট্রেন। এমনকি বিক্ষোভস্থলের চারপাশের পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের পুরো এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে মুহূর্তের কোনো আপডেট বা সরাসরি সম্প্রচার বাইরের দুনিয়ায় পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ব্যাপক ধরপাকড় ও ধ্রুব রাঠির গ্রেপ্তার
সরকার ও প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল যেকোনো মূল্যে এই আন্দোলনকে অঙ্কুরে বিনাশ করা। আর তারই ফলশ্রুতিতে সকাল থেকেই শুরু হয়েছে নির্বিচারে আটক অভিযান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজধানী এবং এর আশপাশ থেকে অন্তত পাঁচ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
এই ধরপাকড়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে গুরুগ্রামে। জনপ্রিয় স্বাধীন ইউটিউবার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠি, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে এই তরুণ আন্দোলনের সঙ্গে প্রকাশ্যে সংহতি প্রকাশ করে আসছেন, তাকে তাঁর নিজস্ব বাসভবন থেকে ভোরেই আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জেন-জির এই গণআন্দোলন এবং ককরোচদের কর্মসূচি ঠেকাতে মোদি সরকার ও প্রশাসন কতটা তটস্থ ও ভীত, দিল্লির আজকের এই কঠোর কড়াকড়ি এবং নজিরবিহীন লকডাউন পরিস্থিতিই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
সান নিউজ / রাজীব