পাকিস্তানে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে: লংমার্চের ডাক পিটিআইর মুখ্যমন্ত্রীর, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারির গুঞ্জন
কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির সাম্প্রতিক এক লংমার্চের আহ্বানে পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাদেশিক সরকারের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে শাহবাজ শরিফের কেন্দ্রীয় সরকার।
সোহেল আফ্রিদির নতুন ডাক ও শাহবাজ প্রশাসনের হুঁশিয়ারি
আগামীকাল রবিবার সারা দেশের পিটিআই নেতাকর্মীদের সোয়াবি ইন্টারচেঞ্জে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। এই সমাবেশ থেকেই পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে লংমার্চের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
তবে মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদির এই ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কেন্দ্রীয় সরকার। খাইবার পাখতুনখাওয়ার সীমানা পেরিয়ে লংমার্চটিকে অন্য কোথাও না নিয়ে যাওয়ার জন্য পিটিআই নেতৃত্বকে পরিষ্কার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আন্দোলন প্রতিহত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে প্রয়োজনে কঠোরতম প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জরুরি অবস্থা বা গভর্নর শাসন জারির জল্পনা
জিও নিউজ ও ডন পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান উত্তেজনার মাঝে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা অথবা সরাসরি গভর্নর শাসন জারির কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় প্রশাসন। এই বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে ইসলামাবাদে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংবিধানের ২৩২ থেকে ২৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার প্রস্তাবটিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সাবেক কেন্দ্রশাসিত উপজাতীয় এলাকাসহ অন্তত ১২টি জেলায় এই জরুরি পদক্ষেপ কার্যকর করা হতে পারে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
পিপিপির তোপ ও বিলাওয়ালের মন্তব্য
শাহবাজ সরকারের অন্যতম শরিক দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি পিটিআইকে তাদের 'উগ্রবাদী' রাজনৈতিক কৌশল পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। করাচির এক অনুষ্ঠানে বিলাওয়াল মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক বাস্তবতায় আজ যারা কারাগারে আছেন, তাঁরা চিরকাল বন্দি থাকবেন এমন নয়; তবে বর্তমান সংঘাতপূর্ণ পথেই হাঁটতে থাকলে ইমরান খানের কারাবাসের মেয়াদ বর্তমান রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার সমালোচনা করে বিলাওয়াল বলেন, এই ধরনের নেতিবাচক ও আক্রমণাত্মক রাজনীতি দিনশেষে পিটিআইকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
পিটিআইর লংমার্চ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
গত ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। তাকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে তাঁর মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছিল দলটি। যদিও সরকারের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই কর্মসূচি কয়েক দফায় পিছিয়ে এখন চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি জানিয়েছেন, পেশোয়ার, মালাকান্দ, কোহাটসহ বিভিন্ন ডিভিশন থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও গাড়িবহর নির্দিষ্ট রুট দিয়ে সোয়াবি ইন্টারচেঞ্জে এসে মিলিত হবে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা এবং ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল সিদ্ধান্তকেই দায়ী করছেন তিনি। তার মতে, বিগত বছরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল ত্যাগের পরও খাইবার পাখতুনখাওয়ায় শান্তি ফেরেনি, যার দায় বর্তমান শাসকদের নিতে হবে।
কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের মুখোমুখি অবস্থানে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সান নিউজ / রাজীব