ছবি: সংগৃহীত
ফিচার
ফিচার

পাহাড়ের বুকেও ফুটল ফুল

রুক্ষ পাহাড় আর শুষ্ক মরুদ্যানের পরিচিতি ভেঙে তুষারাবৃত লাদাখ এবার সেজে উঠেছে রঙের আবিরে। উচ্চতার অহংকার ভেঙে এই দুর্গম ভূখণ্ডে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হয়েছে ১৫ হাজার প্রিমিয়াম মানের ‘এ-গ্রেড’ লিলিয়াম ফুল। সম্প্রতি লেহ বিমানবন্দর থেকে বিশেষ আকাশপথে এই প্রথম ভারতের দিল্লি, মুম্বাই ও চণ্ডীগড়ের প্রধান ফুল বাজারে পাঠানো হলো লাদাখের উৎপাদিত এই প্রথম চালানটি। লাল, গোলাপি, সাদা, হলুদ ও কমলার নানা রঙে রাঙানো এই ফুলগুলোর তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো সেলফ লাইফ বা স্থায়িত্ব রয়েছে প্রায় পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত। বিশ্বের সর্বোচ্চ ফুলের ক্ষেত হিসেবে পরিচিত লাদাখের এই উদ্যোগ কেবল একটি কৃষি সাফল্যই নয়, বরং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় এক নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।

এই যুগান্তকারী সাফল্যের পেছনের পুরো কৃতিত্বটাই মূলত ১৫ জন স্থানীয় অদম্য নারীর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ হাজার ৬০০ ফুট উঁচুতে চৌগলামসার নামের এক শান্ত ছোট শহরে তারা অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন। যেখানে সাধারণ মানুষ গাছপালা জন্মানোর কথাই ভাবতে পারত না, সেখানে এই নারীদের নিরলস পরিশ্রমে উৎপাদিত হয়েছে শীর্ষ মানের এই লিলিয়ামগুলো। প্রতিদিন ৯০০ টাকা মজুরিতে কাজ করা এই নারীরা শুধু ফুল চাষেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; সঠিক সময়ে ফসল তোলা থেকে শুরু করে বাছাই করা, গ্রেডিং করা এবং সুদূর শহরের দীর্ঘ যাত্রার জন্য নিখুঁতভাবে প্যাকেট করার মতো কঠিন কাজগুলোও তারা অত্যন্ত দক্ষ হাতে সামলেছেন। তাদের সঙ্গে এই পুরো যাত্রায় ছায়ার মতো পাশে ছিলেন এক স্থানীয় উদ্ভিদবিদ, যিনি শহুরে বড় ফুল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এই গ্রামীণ উচ্চাল্পীয় কৃষির একটি চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি করতে বড় ভূমিকা রেখেছেন।

লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনাই কুমার সাক্সেনা এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্পর্কে বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, চিরকাল রুক্ষ পাহাড় আর ধূসর প্রান্তরের জন্য পরিচিত লাদাখের দৃশ্যপটে এই বাণিজ্যিক ফুল চাষ এক বিশাল বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। কোটি কোটি রঙিন লিলিয়ামের উপস্থিতি এই শুষ্ক পরিবেশে যে প্রাণের ছোঁয়া এনেছে, তা যেন এক জীবন্ত রূপকথা। এখানকার প্রতিটি ফোটা ফুল মানুষের অসম্ভব মানসিক শক্তি ও টিকে থাকার লড়াইয়ের নীরব সাক্ষী, যা প্রমাণ করে যে কঠোরতম পরিবেশেও প্রাণের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। এই পরীক্ষামূলক চাষের অভাবনীয় সাফল্য লাদাখের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি ইকো-টুরিজম বা পরিবেশবান্ধব পর্যটনেও এক বিরাট বিপ্লব ঘটাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই প্রথম চালানের অভাবনীয় সফলতায় দারুণ উৎসাহিত হয়ে আঞ্চলিক প্রশাসন এখন আরও বড় পরিসরে এগোার পরিকল্পনা করছে। লাদাখের অন্যান্য জেলায় বাণিজ্যিক ফুল চাষের উপযোগী নতুন জমি চিহ্নিতকরণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আগামী এক বছরের মধ্যে অন্তত ২০০ একর জমিতে ফুল চাষের এক বিশাল ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে প্রশাসন। পাহাড়ের বুকে ডানা মেলে দেওয়া এই নতুন স্বপ্ন একদিন পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভাগ্য বদলে দেবে—এমনটাই এখন দৃঢ় বিশ্বাস সবার।

সান নিউজ/রাজীব

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

টানা হারে ডুলির আক্ষেপ

আসিয়ান কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদে...

নাহিদ রানার ফেরা নিয়ে শঙ্কা

দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর কদিন বাদেই ২২ গজে বল হাতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছ...

আইএল টি-টোয়েন্টির নিলামে বাংলাদেশিরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জমজমাট ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট &l...

সরকারের গণভোটের কথায় নতুন সংকট সৃষ্টি হবে: গোলাম পরওয়ার

সংবিধান সংশোধনে পুনরায় গণভোটের কথা বলে বর্তমান সরক...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা