নওগাঁর বদলগাছীতে হাট ও বাজারে সরকারি খাস খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং সরকারি রাজস্ব লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ না করে প্রভাবশালী একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে খাজনা আদায় করছে, ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বদলগাছী হাট ও বাজার (গভঃ একোয়ার্ড স্টেট হাট) খাস খাজনার আওতাভুক্ত হলেও উপজেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তদারকির পরিবর্তে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তার অনুসারীরা খাজনা আদায় করছেন। উপজেলার কোলা, ভান্ডারপুর, পারসোমবাড়ী, চাঁদপুর ও বদলগাছী সদর পাঁচটি হাট উপজেলার সবচেয়ে বৃহত্তর হাট। এই হাট থেকে প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব হয়। যা থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রকারের উন্নয়ন হয়ে থাকে। তবে চলতি বছরে ক্ষমতাসীন দল প্রভাব খাঁটিয়ে হাটে ও যোগসাজশ করে কাউকে দরপত্র দাখিল করতে দেয়নি। পরে হাটগুলো খাস আদায়ে গেলে প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে নিজেরা আদায় করেন। ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নামমাত্র অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেখিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়মের মাধ্যমে বণ্টন করা হচ্ছে। যদিও এ অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে, এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটন এবং সরকারি রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
শনিবার বদলগাছী সদর হাটে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আবু রাইহান গিটারের লোকজন হাটে বিভিন্ন খাত থেকে খাজনা আদায় করছেন।
তবে হাটের কোথাও সরকার নির্ধারিত খাজনার হার বা তালিকা টানানো হয়নি, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থি বলে অভিযোগ করেছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এদিকে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে ৪০ কেজিতে এক মণ হিসেবে কাঁচামাল ক্রয়ের সম্প্রতি পরিপত্র জারি হলেও হাটে ৪২ থেকে ৪৩ কেজিতে এক মণ হিসেবে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
খাজনা আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবু আশারী নামে এক ব্যক্তি জানান, "হাটটি খাস আদায়ের আওতাভুক্ত। তবে আবু রাইহান গিটার অফিস থেকে লিজ নিয়েছেন বলে আমরা জেনেছি।
এ বিষয়ে আবু রাইহান গিটারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে সাক্ষাতে কথা বলবো।" এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অন্যদিকে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, "বদলগাছী সদর হাট ও বাজারে খাস খাজনা আদায় করা হচ্ছে।