কার্জন হল
শিক্ষা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ 

সান নিউজ ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯২১ সালের এই দিনে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ ঘটে প্রতিষ্ঠানটির। তৎকালীন ব্রিটিশশাসিত বাংলায় এটিই ছিল একমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

আরও পড়ুন: ড. ইউনূস শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চান

ছাত্রছাত্রীদর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উন্মুক্ত হয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই। সে সময়কার ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর পূর্ববঙ্গ এবং আসাম প্রদেশ সরকারের পরিত্যক্ত ভবনগুলো এবং ঢাকা কলেজের (বর্তমান কার্জন হল) ভবনগুলোর সমন্বয়ে মনোরম পরিবেশ গড়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাকালে ৩টি অনুষদ ও ১২টি বিভাগ নিয়ে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রথম শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন। শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ জন।

শতবর্ষ পরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেবর অনেক বেড়েছে। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩টি অনুষদ, ৮৩টি বিভাগ, ১৩টি ইনস্টিটিউট, ১৯টি আবাসিক হল, ৪টি হোস্টেল এবং প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালির জাতির জন্য শুধুমাত্র শিক্ষিত নাগরিক তৈরি করেনি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বাঙালি জাতির আলাদা পরিচয় ও জাতিসত্তা পরিচয়ের জন্য কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠার ত্রিশ বছরের মাথায় দেশের সবচেয়ে বেশি মানুষের ভাষা বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী ভালো কাজ করেছেন

ভাষা আন্দোলনের পরে দেশের মানুষের স্বাধিকার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই। তদানীন্তন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মূল টার্গেটে পরিণত হয়েছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়। পুরো পাকিস্তানি সামরিক শক্তির ঘুম হারাম করে দিয়েছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সেই শোধ নিতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হামলার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বেছে নেয় পাকিস্তানিরা। প্রাণ যায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করা অসহায় মানুষেরও। প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশ বছরে জাতিকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দেয় এ ঢাবি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে রয়েছে জাতির ঋণ।

এ বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু জাতি প্রতিষ্ঠা করে থেমে থাকেনি। জাতিকে গঠন ও নেতৃত্ব দেওয়ার কাজ করেছে এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় সব প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছে এ ঢাবির শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ১০২ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে এক বাণীতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, করোনা মহামারিসহ বৈশ্বিক নানামুখী অভিঘাত মোকাবিলা করে আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী বিশ্ববিদ্যালয় বিনির্মাণের পথে এগিয়ে চলেছি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখা আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: পুলিশের নৌকাডুবি, খোয়া গেছে অস্ত্র

বাণীতে তিনি লেখেন, যুগ ও সমাজের চাহিদা অনুযায়ী গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, নতুন নতুন উদ্ভাবন, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, মুক্তচিন্তার উন্মেষ ও বিকাশ, সৃজনশীলতার চর্চা এবং নতুন ও মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে। কারিকুলাম ও পাঠক্রমের আধুনিকায়ন এবং মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণার প্রতি আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

গবেষণার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো ‌‘গবেষণা-প্রকাশনা মেলা’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের যোগসূত্র স্থাপিত হবে বলে আশা করছি।

বিশ্বের অন্যতম শেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে উপাচার্য বাণীতে বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশের উন্নয়ন ঘটিয়ে অবারিত জ্ঞান চর্চা এবং নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে পরিণত হবে- এ আমার বিশ্বাস। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করছি।

সান নিউজ/এনকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

৩ নভেম্বরের মহাসমাবেশ সফল করতে রংপুরে মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রস্তুতি সভা

সারাদেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে আগামী ৩ নভেম্বর ঢাক...

স্কুলের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই স্কুলের ৪টি গাছ কেটে ফেলা...

অটিজম-ডাউন সিনড্রোম চিকিৎসায় সাড়া ফেলেছেন ডা. মুছা

একটি শিশু যখন কথা বলতে পারে না, নিজের পায়ে হাঁটতে...

মুন্সীগঞ্জে ৩ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের পদ্মা সেতু উত্তর থানার খানবাড়ি বাসস্ট...

সেনা মোতায়েন করে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ রাখতে সফল ইতালি

ইতালির মিলান, রোম ও তুরিনসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে শনিবার হাজার হাজার তরুণ-তরুণী...

সুশীলদের উদ্দেশে যে বার্তা দিলেন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস,...

কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ, পাবেন ৫৯ হাজার ডলার

কানাডায় গবেষণার সুযোগ দিচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্...

মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে যা বললেন তটিনী

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই দর্শক...

‘বিয়ে কবে?’ প্রশ্নে বিরক্ত সাফা কবির, জানালেন কেমন জীবনসঙ্গী চান

তাসনিয়া ফারিণ, সাবিলা নূর ও মেহজাবীন চৌধুরী—সমসাময়িক সময়ের জনপ্রিয় এই ত...

‘কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন?’

নিজের বসতভিটায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াতে...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা