সারাদেশ

সৈয়দপুরে আজ স্থানীয় শহীদ দিবস

আমিরুল হক, নীলফামারী: আজ ১২ এপ্রিল নীলফামারীর সৈয়দপুরে স্থানীয় শহীদ দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে রংপুরের নিসবেতগঞ্জে চালানো হয়েছিল নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সৈয়দপুর শহরের দেড়শ মুক্তিকামি, রাজনীতিক ও পেশাজীবী বন্দিকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।

আরও পড়ুন: রাবিতে আদিবাসী কোটা পুনর্বহালের দাবি

১৯৭১’র এইদিনে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) ড. জিকরুল হক, আওয়ামীলীগ নেতা ডা. বদিউজ্জামান, ডা. শামসুল হক, ন্যাপ নেতা এস.এম ইয়াকুব, রেলওয়ে কর্মকর্তা আয়েজ উদ্দিন, ব্যবসায়ী তুলশীরাম আগরওয়ালা, রামেশ্বরলাল আগরওয়ালা, যমুনা প্রসাদ কেডিয়াসহ দেড় শতাধিক রাজনৈতিক, পেশাজীবী যুব ও ছাত্র নেতাকে রংপুর সেনানিবাস সংলগ্ন নিসবেতগঞ্জ বধ্যভূমিতে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী।

ওই রাতেই বন্দিদের লাশ গণকবর দিয়ে মাটিচাপা দেয়া হয়। এর আগে তাঁদের সৈয়দপুর সেনানিবাসে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছিল।

হত্যাযজ্ঞের এ দিনটিকে স্মরণ করতে প্রতি বছর ১২ এপ্রিল স্থানীয় শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এ বছর দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে সকাল ৯টায় কালো ব্যাজ ধারণ, সকাল ১০টায় স্মৃতি অনুষ্ঠানে পুষ্পাঞ্জলী, বাদ আছর পৌরসভা সড়কের তুবা মসজীদে মিলাদ মাহফিল, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে আদিবা সেন্টারে দিবসের তাৎপর্যশীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল।

তৎসময় ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সৈয়দপুরে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য জিকরুল হকের নেতৃত্বে সৈয়দপুরে সব বাঙালি এক কাতারে শামিল হয়। সারা দেশে পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণের বিরুদ্ধে ২৫ মার্চ কালরাতে লড়াই শুরু হলেও সৈয়দপুরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় ২৪ মার্চ। সৈয়দপুর উপজেলা সদরকে ‘নিউ বিহার’ হিসেবে ঘোষণা দেয় অবাঙালিরা।

আরও পড়ুন: রাবিতে ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত আবেদন ফি ১১০০ টাকা

অবাঙালি অধ্যুষিত সৈয়দপুরে সেনানিবাস থাকায় পাকিস্তনি সেনাদের সঙ্গে অবাঙালিদের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের সহায়তায় একশ্রেণির অবাঙালি সৈয়দপুর শহর ছাড়াও অন্যান্য এলাকায় লুটতরাজ ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে সৈয়দপুরের প্রায় চার হাজার মুক্তিকামি মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে পাকিস্তনি বাহিনীরা।

এছাড়াও ১৯৭১ সালের ১৩ জুন সৈয়দপুর শহরে সবচেয়ে বড় গণহত্যা হয়। এ দিন শহরের ৪৭৮ জন মাড়োয়ারি পরিবারের সদস্যকে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার নামে ট্রেনে তোলা হয়। রেলওয়ে কারখানার উত্তর প্রান্তে সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করে তাঁদের সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়। শিশুদেরও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

সান নিউজ/এনকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মুন্সীগঞ্জে পাঁচ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিক...

নলকূপ বসানোর সময় মাটি থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন জ্বলে উঠলো

কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ (টিউবওয়েল) বসানোর জন্য মা...

মুন্সীগঞ্জে ৯০০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আমঘাটা গ্রাম থে...

ক্ষমতা ধরে রাখার অগ্নিপরীক্ষায় নেতানিয়াহু, চোখ নেসেটের ১২০ আসনে

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেন...

রাশমিকাকে নিয়ে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বিতর্কে বিজয়ের ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও

কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানে রাশমিকা মান্দানার সঙ্গে আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযো...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা